অভিষেক ঘনিষ্ঠ বলেই জাহাঙ্গিরের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নয়? মমতার বাড়িতে প্রশ্ন নেতাদেরই

35

দেবারতি ঘোষ, কলকাতা : মঙ্গলবার কালীঘাটে তৃণমূলের পরিষদীয় দলের বৈঠকে জাহাঙ্গির খান ইস্যুতে দলের অন্দরে চাপানউতোর আরও বাড়ল।


ফলতা বিধানসভা নির্বাচনের দুদিন আগে আজই পুনর্নির্বাচন থেকে সরে দাড়ানোর কথা ঘোষণা করেন জাহাঙ্গির। এদিনের বৈঠকে, জাহাঙ্গির খানকে কেন এখনও বহিষ্কার করা হচ্ছে না,তা নিয়ে সরব হন কুণাল ঘোষ, ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় ও সন্দীপন সাহা। বৈঠকে প্রশ্ন ওঠে,জাহাঙ্গির অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ বলেই কি দলের পক্ষ থেকে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? জবাবে অভিষেক বলেন,’ট্যুইট হয়েছে,দেখে নাও।’বৈঠকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’জাহাঙ্গিরের উচিত ছিল অভিষেকের সঙ্গে কথা বলা।’

এদিন বৈঠকে দলের অন্দরে আরও একাধিক ক্ষোভ সামনে আসে। সূত্রের খবর,কুণাল ঘোষ, সন্দীপন সাহা ও ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় নেতৃত্বকে মাঠে নামার কথা বলেন। কুণাল ঘোষ বলেন,’মন খুলে কথা বলতে দিতে হবে। নেতারা মাঠে নামুন,ঘরে বসে থাকলে কী করে হবে?’ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠকে বলেন,’প্রচারে গিয়ে অভিষেক বলেছিলেন, ফলতায় শ্মশান গড়ে দেওয়া হবে। সেই শ্মশানের দায় কে নেবে?’ এই মন্তব্য ঘিরেও বৈঠকে উত্তেজনা তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর।

অন্যদিকে, বৈঠকে বিজেপিকে আক্রমণ করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন,’এই রাজ্যে অনেকে মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন। কিন্তু বর্তমান মুখ্যমন্ত্রীর মতো কেউ নয়। যাঁকে ক্যামেরায় টাকা নিতে দেখা গিয়েছিল,তাঁকেই মুখ্যমন্ত্রী করা হয়েছে।’ পাশাপাশি অভিষেক বলেন,’যা খুশি করুক,বাড়ি ভেঙে দিক,নোটিস পাঠাক,আমি মাথা নত করব না। বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাব।’

তৃণমূল সূত্রের খবর, বুধবার বিধানসভায় আম্বেদকর মূর্তির সামনে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হতে পারেন তৃণমূলের বিধায়করা। অন্যদিকে, ২১ মে বিজেপির ‘বুলডোজার সংস্কৃতি’ ও হকার উচ্ছেদের প্রতিবাদে রাজ্যজুড়ে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। হাওড়া স্টেশন,শিয়ালদহ স্টেশন ও বালিগঞ্জ সংলগ্ন এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি করবে তৃণমূল।