পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:মমতার শিবির ছেড়ে এবার ঋতব্রতদের শিবিরে মদন মিত্র, মমতাকে লিখলেন” সরি” রাতে তৃণমূলের বিদ্রোহী শিবিরের সদস্য সন্দীপন সাহার এন্টালির বাড়িতে বৈঠক করেছিলেন মদন মিত্র। তখন থেকেই প্রশ্ন উঠছিল তবে এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ছাড়ছেন কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক? বেশিক্ষণ সময় নিলেন না। সেটাই হল। সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভবানীপুরের বাড়ি থেকে বেরিয়ে নিজে গাড়ি চালিয়ে সোজা বিধানসভা।
বিধানসভায় গিয়ে সরাসরি বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘরে মদন মিত্র। বেশ কিছুক্ষণ বৈঠক করার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ওয়াটস অ্যাপে লিখলেন “সরি”। কালীঘাট তৃণমূলের সব পদ থেকে ইস্তফা দিলেন এম এম।
মঙ্গলবার পুরনিয়োগ দুর্নীতি মামলায় মদন মিত্রর স্ত্রী ও দুই পুত্রকে তলব করেছে ইডি। তারপর সন্ধেতেই স্বর্ণকমল সাহার এন্টালির বাড়িতে হাজির হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘদিনের ভরসার সঙ্গী মদন মিত্র ।পালা বদলের পর উলুবেড়িয়া পূর্বের বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবিরে যোগ দিতে শুরু করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লড়াইয়ের সাক্ষীরা।ফিরহাদ হাকিম, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, অনুব্রত মণ্ডলদের মতো নেতারা তৃণমূল সুপ্রিমোর হাত ছেড়ে দেন। কিন্তু মদন মিত্র সরেননি। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে সেই সময় তীব্র ভাষায় আক্রমণও করেছেন।
আজ বিধানসভায় গিয়ে একেবারে উল্টো বক্তব্য মদনের। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন “অভিষেকর জন্য গোটা দল ধ্বংস হয়েছে। সবাই মরে যাক, শুধু অভিষেক বেঁচে থাকুন দলে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছিল। এটা দুঃখজনক। হাত জোড় করে অনুরোধ, এটা ম্যারাথন। যেতে যেতে রাস্তায় তো দেখা হবেই। দেখা যাক কোন ঘোড়া আগে বেরিয়ে যায়। শুধু আমার বাবার দেওয়া মদন মিত্র নাম, পড়াশোনা আর এম এল এ পদ বাদে সব ছেড়ে দিয়েছি।”
সবশেষে মদন মিত্র নিজের কায়দায় জানিয়েছেন তিনি এখন বাংলার বিধায়ক।