সীমান্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প

15

ভারতের আন্তর্জাতিক সীমান্তের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন প্রকল্প চালু করছে কেন্দ্রীয় সরকার। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সীমান্ত রয়েছে প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার। এই বিস্তীর্ণ এলাকাকে সুরক্ষিত রাখতে ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্প চালু করবে নরেন্দ্র মোদীর সরকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করে বলেছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে কাজ শুরু হয়ে যাবে। আমাদের এই উদ্যোগের লক্ষ্য সীমান্তকে দুর্ভেদ্য করে তোলা এবং সীমান্ত এলাকার জনবিন্যাস পরিবর্তনের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করা।

শুক্রবার দিল্লিতে বিএসএফের বার্ষিক রুস্তমজি মেমোরিয়াল বক্তৃতায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, আদ্যন্ত প্রযুক্তিনির্ভর এই ‘স্মার্ট বর্ডার’ প্রকল্পে ড্রোন, রেডার এবং নজরদারি ক্যামেরার সাহায্যে একটি নিশ্ছিদ্র নজরদারি পরিকাঠামো গড়ে তোলা হবে। নদীবেষ্টিত এলাকা এবং আকাশপথও সুরক্ষিত করা হবে। বিএসএফকে এবিষয়ে প্রযুক্তিগত সহায়তা দেবে সরকার। বাংলাদেশ সীমান্তের যে অঞ্চলগুলিতে এখনও বেড়া দেওয়া হয়নি, সেখানে দ্রুত কাজ শেষ করা হবে।

বহুদিন ধরেই অমিত শাহ বলছেন যে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় ধারাবাহিক অনুপ্রবেশের ফলে জনবিন্যাসের চরিত্র বদলে যাচ্ছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর অনুষ্ঠানে তিনি বেলন, ত্রিপুরা, পশ্চিমবঙ্গ ও অসমের সরকার অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে কেন্দ্রের নীতির সঙ্গে সহমত। প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে শনাক্ত করে বহিষ্কার করার ব্যাপারে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।

শাহর ঘোষণা, আগামী এক বছরের মধ্যে পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সীমান্তজুড়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মোদী সরকার। বাংলাদেশ ও ভারতের মোট প্রায় ৪,০৯৬ কিলোমিটার সীমান্ত আছে। তার মধ্যে পশ্চিমবঙ্গেই সীমান্ত প্রায় ২,২১৯ কিলোমিটার লম্বা। এর মধ্যে প্রায় ১৬৫০ কিলোমিটারে কাঁটাতারের বেড়া আছে। বাকি ৫৬৯ কিলোমিটারে কোনও কাঁটাতার নেই। এ ছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে সীমান্ত রয়েছে অসম, ত্রিপুরা ও মেঘালয়ের।

সম্প্রতি বিএসএফকে বাংলাদেশ সীমান্তে ২৭ কিলোমিটার জমি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছেন, পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে বাংলাদেশ সীমান্ত প্রায় ২২০০ কিলোমিটার। এর মধ্যে ১৬০০ কিমি কাঁটাতার রয়েছে। ৬০০ কিমিতে কাঁটাতার সম্পূর্ণ করা যায়নি। ৫৫৫ কিমিতে চাইলেই আগের সরকার জমি দিতে পারত। কিছুদিনের মধ্যে অরক্ষিত সীমান্তে কাঁটাতারের জন্য প্রয়োজনীয় সব জমি দেওয়া হবে বিএসএফকে।