জুলাই থেকেই পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’, স্বাস্থ্য খাতে ৩,০০০ কোটির প্যাকেজ

47

কলকাতা,দেবারতি ঘোষ : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত এবং স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে বিতর্কের আবহে পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে নতুনভাবে সাজানোর বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শনিবার দিল্লি-নবান্নের মধ্যে এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি জানান, আগামী জুলাই মাস থেকেই পশ্চিমবঙ্গে চালু হতে চলেছে কেন্দ্র সরকারের বহুল আলোচিত স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। একই সঙ্গে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নের জন্য কেন্দ্রের তরফে মোট ৩,০০০ কোটি টাকার আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে বলেও ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, ইতিমধ্যেই প্রথম কিস্তির ৫০০ কোটি টাকা রাজ্যের অ্যাকাউন্টে এসে পৌঁছেছে। তাঁর বক্তব্য, বহুদিন ধরে রাজনৈতিক মতবিরোধ এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার কারণে বাংলার সাধারণ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এবার সেই পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে একটি সমন্বিত স্বাস্থ্য কাঠামো গড়ে তোলা হবে।

শনিবারের বৈঠকে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জগৎপ্রকাশ নাড্ডা, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যসচিব, রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বাস্থ্যসচিব এবং স্বাস্থ্য দফতরের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উপস্থিত ছিলেন। প্রায় এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা বৈঠকে মূলত পশ্চিমবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামো, সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা, স্বাস্থ্যবিমা প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে পশ্চিমবঙ্গের বহু মানুষ কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধা পাননি। তাঁর অভিযোগ, এর ফলে কোটি কোটি মানুষ উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এমনকি ২০১৬-১৭ সালে তিনি যখন কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন, তখনও ডেঙ্গু-সহ বিভিন্ন জনস্বাস্থ্য সমস্যায় রাজ্য প্রশাসনের সহযোগিতা পর্যাপ্ত ছিল না বলেও দাবি করেন তিনি।

স্বাস্থ্য খাতে নতুন রূপরেখা তৈরির অংশ হিসেবে মাতৃস্বাস্থ্য, শিশুস্বাস্থ্য, হাম-রুবেলা প্রতিরোধ, ম্যালেরিয়া ও ফাইলেরিয়া নির্মূল কর্মসূচি, টিকাকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং জেলা হাসপাতালগুলির আধুনিকীকরণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর, আগামী কয়েক মাসের মধ্যে স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়ন, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ, ডিজিটাল স্বাস্থ্যব্যবস্থা চালু এবং রোগীদের চিকিৎসা পরিষেবা আরও সহজলভ্য করার জন্য একটি নির্দিষ্ট ‘রোডম্যাপ’ তৈরি করা হয়েছে।

রাজনৈতিক মহলেও এই ঘোষণাকে ঘিরে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমবঙ্গে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প চালু না হওয়া নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে মতবিরোধ ছিল। সেই পরিস্থিতিতে জুলাই থেকেই প্রকল্প বাস্তবায়নের ঘোষণা নিঃসন্দেহে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এখন দেখার, বাস্তব ক্ষেত্রে এই স্বাস্থ্য সংস্কারের রূপরেখা কত দ্রুত কার্যকর হয় এবং সাধারণ মানুষের কাছে কতটা সুফল পৌঁছায়।