মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বাংলার জন্য কী ঘোষণা রেলমন্ত্রীর?

38

নিউজ ডেস্ক: নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী-রেলমন্ত্রীর বৈঠকে রেলের আটকে থাকা প্রকল্প নিয়ে জট কাটার ইঙ্গিত। মেট্রো থেকে শুরু করে ফ্রেট করিডর, নবান্নে বৈঠকের পর একগুচ্ছ আশ্বাস দিয়ে গেলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। একই সঙ্গে তৃণমূলকে তুলোধনা করতে ছাড়লেন না তিনি।

চিংড়িঘাটায় মেট্রোর যে কাজ প্রায় ২ বছর ধরে আটকে ছিল, রাজ্যে বিজেপি সরকার আসার পর, তা মিটেছে মাত্র ১২০ ঘণ্টায়। আরও একটি জট কেটেছে সেই অরেঞ্জ লাইনে। ভিআইপি রোডের হলদিরাম চত্বরে কাজের অনুমতি মিলেছে মেট্রোর। অভিযোগ, ২ বছর আগে এই কাজের জন্য অনুমতি চাওয়া হলেও তৎকালীন রাজ্য সরকার অনমতি দেয়নি।

শনিবার নবান্নে রাজ্যের আটকে থাকা রেল প্রকল্প নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। বৈঠকের পর পূর্বতন তৃণমূলকে নিশানা করেন তিনি। রেলমন্ত্রীর দাবি, ‘বহুদিন রেলের কাজ আটকে ছিল। TMC সরকার কাজে অনুমতি দিত না।
মমতার আমলে কাজের অনুমতি মিলত না। কাজে বাধা দিতে কোর্টে গিয়েছিল। তৃণমূল বিকাশ বিরোধী। চিংড়িঘাটায় মেট্রোর কাজ আটকে ছিল।বাংলাকে বঞ্চিত করেছে তৃণমূল সরকার। নয়া রাজ্য সরকার এখন কাজের সুযোগ পেল।’

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর অধিকারীও নিশানা করেন তৃণমূল সরকারকে। তাঁর মন্তব্য, ‘উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত ছিল বাংলা। আগের সরকার রেলের সঙ্গে অসহযোগিতা করেছে। আজকের বৈঠকে বড় সিদ্ধান্ত হয়েছে। মোদীজি বাংলাকে ভালবাসেন। ডবল ইঞ্জিনের সুবিধা পাবে রাজ্য।’

রবিবার নবান্নে কার্যত ‘কল্পতরু’ রেলমন্ত্রী একগুচ্ছ প্রকল্পের ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ‘রাজ্যে রেলের ক্ষেত্রে উন্নতি হবে। ১০২টি অমৃত ভারত স্টেশন তৈরি হবে। ৪৫ কিমি কলকাতা মেট্রো চালু হয়েছে। আগামী ৫ বছরে মেট্রোয় চালু হবে আরও ৬০টি ট্রেন।’ একই সঙ্গে রেলমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘ডানকুনিতে ফ্রেট করিডর তৈরি হবে।সব রাজ্যকে জুড়বে ফ্রেট করিডর। আগামী দিনে সমস্ত সুযোগ সুবিধা পাবেন।’

বৈঠকের পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যে রেল সংক্রান্ত প্রায় ১ লক্ষ কোটিরও বেশি টাকার কাজ হবে। এর মধ্যে রয়েছে নতুন রেললাইন, স্টেশন আধুনিকীকরণ, আন্ডারপাস, উড়ালপুল এবং মেট্রো প্রকল্প। নির্মাণ করা হবে ৫৩৮টি আন্ডারপাস ও উড়ালপুল। একাধিক রেল প্রকল্পের গতি বাড়ানো হবে। মেট্রো সম্প্রসারণ নিয়েও বিশেষ জোর দেওয়া হবে।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, আন্ডারপাস তৈরির জন্য ইতিমধ্যেই রেলকে ৪০টিরও বেশি ছাড়পত্র দিয়েছে রাজ্য সরকার। তিনি বলেন, ‘BSF-র মতো রেলকেও জমি দেবে রাজ্য। যেখানে যেখানে প্রয়োজন, যেমন যা জমি লাগবে, রাজ্য রেলকে দেবে।’ রাজ্যের দাবি, জমি সংক্রান্ত জট কাটলে বহু প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগোবে। বিশেষ করে রেল সুরক্ষা, যানজট কমানো এবং শহরতলির যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতিতে আন্ডারপাস ও উড়ালপুল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।

পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, ‘উত্তরবঙ্গ, দক্ষিণবঙ্গ, জঙ্গলমহলে রেলের কাজ হবে।’ রেল সূত্রে খবর, উত্তরবঙ্গের রেল যোগাযোগ শক্তিশালী করা, জঙ্গলমহলে নতুন সংযোগ বৃদ্ধি এবং দক্ষিণবঙ্গের শহরতলি রেল পরিষেবা উন্নয়নের উপর বিশেষ জোর দেওয়া হতে পারে।

এর আগে জয় হিন্দ স্টেশন থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত মেট্রো পরিদর্শন করেন রেলমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন রেল ও রাজ্যের আধিকারিকরা। যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলেন অশ্বিনী বৈষ্ণব। চড়েন অটোতেও। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, চিংড়িঘাটাতেও তিনি পরিদর্শনে যাবেন। খতিয়ে দেখবেন মেট্রো প্রকল্পের অগ্রগতির কাজ।