সু্প্রিম কোর্টে স্বস্তি অভিষেক উপাধ্যায়ের

29

নিউজ ডেস্ক: সুপ্রিম কোর্টে স্বস্তি পেলেন উত্তরপ্রদেশের সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়। রামমন্দিরে প্রণামী-দান চুরির ঘটনা প্রথম প্রকাশ্যে এনেছিলেন অভিষেক। তারপর অভিষেকের বিরুদ্ধে সড়ক-সংঘর্ষের এফআইআর করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ। আরও কয়েকটি এফআইআর হয় অভিষেকের বিরুদ্ধে। শেষপর্যন্ত জনজাতি আইনেও অভিষেক উপাধ্যায়ের বাড়ি তল্লাশি করে পুলিশ।
সব এফআইআর বাতিল করতে এবং গ্রেফতার এড়াতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন উত্তরপ্রদেশের বিশিষ্ট তদন্তমূলক স্বাধীন সাংবাদিক অভিষেক উপাধ্যায়। সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত মিশ্র, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ গ্রেফতারির বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ দিয়েছে। অভিষেকের বিরুদ্ধে এপর্যন্ত যত এফআইআর করা হয়েছে তার প্রেক্ষিতে গ্রেফতার তো করাই যাবে না এবং এইসঙ্গে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত বলেছেন, ভবিষ্যতেও নতুন কোনও এফআইআরের সূত্রে তাঁকে গ্রেফতার করা যাবে না। এক সপ্তাহের মধ্যে সব এফআইআরের কপি দিতে হবে অভিষেক উপাধ্যায়কে। তারপর তিনি গ্রেফতারি এড়াতে বা অন্যান্য মামলা করতে পারেন এলাহাবাদ হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্টে এই মামলার পরবর্তী শুনানি ৭ সেপ্টেম্বর।
অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের পক্ষে বলা হয়েছে, তিনি রামমন্দিরের কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে এনে অক্ষমণীয় অপরাধ করেছেন। প্রধান বিচারপতি বলেছেন, আপনি সুপ্রিম কোর্টে এসে ভালো কাজ করেছেন। অনবরত এফআইআর করা হচ্ছে আপনার বিরুদ্ধে, জানি না সেসবের ভিত্তি সত্য কি না। আপনি এবার হাইকোর্টে যান, ততদিন পর্যন্ত আমরা আপনাকে রক্ষাকবচ দিচ্ছি।

অভিষেক উপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযোগ, তাঁর চারচাকার গাড়ি ধাক্কা মারে একটি মোটরসাইকেলে। তারপর অভিষেক বাইক আরোহীকে গালিগালাজ করেন। যদিও অভিষেকের বক্তব্য, এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। আশপাশের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পুলিশ ভয় দেখিয়ে নষ্ট করেছে। ঘটনার সময় তিনি মেয়েকে নিয়ে ফিরছিলেন স্কুল থেকে। তিনি কোনও গাড়িতে ধাক্কা দেননি। এরপর তাঁর আবেদন, উত্তরপ্রদেশ পুলিশ নয়, কোনও নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থাকে দায়িত্ব দেওয়া হোক এই কেসে।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ অভিষেক উপাধ্যায়ের সব আবেদনে সম্মত না হলেও তাঁকে রক্ষাকবচ দিয়েছে।