নিউজ ডেস্ক: বিধানসভা ভোটে তৃণমূলের ভরাডুবির ঠিক এক মাস গড়াতে না গড়াতেই ঘাসফুল শিবিরে ভাঙন অব্যাহত। বুধবার৫৮ জন তৃণমূল বিধায়কের সমর্থনের চিঠি নিয়ে বিধানসভায় হাজির হন তৃণমূলের বহিষ্কৃত বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধায়। তার রেশ কাটতে না কাটতেই রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী তৃণমূল দল ছাড়লেন। ২০১১ সালে হুগলির জাঙ্গিপাড়া থেকে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন স্নেহাশিস। তৃতীয় বার তৃণমূল সরকার গঠনের পর ২০২২ সালের অগাস্ট মাসে রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী হন তিনি। তবে এবারের বিধানসভা ভোটে জাঙ্গিপাড়ার প্রার্থী হিসাবে লড়াই করে বিজেপির প্রসেনজিৎ বাগের কাছে ৮৬২ ভোটে পরাজিত হন স্নেহাশিস। বুধবার বিধানসভায় গিয়েছিলেন তিনি। সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, ‘আমি আর রাজনীতি করব না। মানুষের রায় মেনে নিয়েছি।’ শুধু তাইনয় সংবাদমাধ্যমের সামনে তাঁকে শুভেন্দুর গুনগান করতেও দেখা যায়। স্নেহাশিসের কথায়, শুভেন্দু অধিকারী লড়াকু নেতা তিনি একসময় তাঁদের দলের কর্মী ছিলেন। শুভেন্দুকে এখন কিছু বলা উচিত হবে না। শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে আমি এখন কিছু বলতে পারব না।’
একদিকে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘প্রিয়’ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে দলেই তীব্র ফাটল দেখা দিয়েছে। তা এখন প্রকাশ্যেই। এই টালমাটাল পরিস্থিতির মধ্যেই বুধবার তৃণমূলের সমস্ত শাখা সংগঠনও ভেঙে দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে এখন আর তৃণমূলে কেউ কোনও পদে নেই। এমন সময় কলকাতা পুর নিগমের মেয়র পদ থেকেও ইস্তফা দিচ্ছেন ফিরহাদ হাকিম। বিধাননগর পুরনিগমেও মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন কৃষ্ণা চক্রবর্তী। ফলে তৃণমূলে ভাঙনের ঢেউ যেন বয়েই চলেছে।