মেঘালয় ক্রিকেটে যৌন কেলেঙ্কারির ছায়া

32

নিউজ ডেস্ক : মেঘালয় ক্রিকেটে যৌন কেলেঙ্কারির ছায়া। যৌন হেনস্থার অভিযোগ পাওয়ার পরও ৬ মাস কোনও পদক্ষেপ করা তো দূরের কথা, অভিযোগই কাউকে জানতে দেয়নি মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার সচিব। মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার সভাপতি জেমস পিকে সাংমা গোটা ঘটনার নিন্দা করে জানিয়েছেন, মাসছয়েক আগে মেঘালয়ের অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা ক্রিকেটারদের কয়েকজন যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন সচিব রেনল্ড খারকামনির কাছে। কিন্তু তিনি অভিযোগ ঢেকে রাখেন এবং কোনও পদক্ষেপ করেননি।
গত বছর ডিসেম্বরে মেঘালয়ের অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা ক্রিকেটারদের কয়েকজন যৌন হেনস্থার অভিযোগ করেছিলেন প্রধান কোচ, টিম ম্যানেজারের বিরুদ্ধে। জানুয়ারি মাসে জেমস সাংমা সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পরও তাঁকে অভিযোগের বিষয়ে কিছু জানানো হয়নি বলে অভিযোগ। সাংমা বলেছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও তদন্ত হয়নি, এমনকি অভিযোগের পর সাধারণ উত্তরও দেওয়া হয়নি। কয়েকজনের জন্য গোটা মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থা বদনামের ভাগীদার হয়েছে।
৬-১১ এপ্রিল মেঘালয়ে অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা ক্রিকেটারদের এনইসিডিসি টি-২০ টুর্নামেন্ট হয়েছিল। সেখানেও রাখা হয়েছিল অভিযুক্ত টিম ম্যানেজারকে। সংস্থা সচিব খারকামনি অভিযোগের বিষয়টি জানার পরও টিম ম্যানেজারের অন্তর্ভুক্তিতে কোনও বাধা দেননি। মহিলা ক্রিকেটারদের অভিযোগ অনুযায়ী যৌন হেনস্থার বিষয়টি জানতেন প্রাক্তন সভাপতি নব ভট্টাচার্য, প্রাক্তন কোষাধ্যক্ষ ধ্রুবজ্যোতি ঠাকুরিয়া এবং প্রাক্তন ম্যানেজার ক্রিকেট অপারেশন লিংডো।
সাংমা বলেছেন, যদি সামান্য আভাসও পেতাম অভিযোগ সম্পর্কে তাহলে অভিযুক্ত টিম ম্যানেজারকে কোনও দায়িত্ব দিতাম না। এখন সংবাদমাধ্যমে সবকিছু প্রকাশ হওয়ার পর সচিব তৎপরতা দেখাচ্ছেন।
এদিকে, সংস্থা সচিব জানিয়েছেন, মেঘালয় ক্রিকেট সংস্থার নির্বাচনের সময় এই অভিযোগ এসেছিল। সেজন্য কোনও পদক্ষেপ করা যায়নি। যদিও এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন সংস্থার সভাপতি জেমস সাংমা।
সাংমা বলেছেন, অভিযোগ এসেছিল ৩ ডিসেম্বর। ১৯ ডিসেম্বর ছিল নির্বাচন। অভিযোগের পরই ব্যবস্থা নেওয়া যেত। আর সবচেয়ে বড় কথা, সংস্থা সচিব হলেন সংস্থার অভিভাবক। তাঁর কাছ থেকে এরকম দায়িত্বহীনতা আশা করা যায় না।
মেঘালয়ের মহিলা কমিশন এবিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে। খারকামনি, নব ভট্টাচার্য, ধ্রুবজ্যোতি ঠাকুরিয়া এবং প্রাক্তন ম্যানেজার লিংডোকে তলব করেছে। ২৬ মে তাঁদের হাজির হতে হবে মহিলা কমিশনের সামনে।
১৯ মে তলবের নোটিস দিয়ে বলা হয়েছে, যৌন হেনস্থার মতো মারাত্মক অভিযোগ সত্ত্বেও সচিব, কোষাধ্যক্ষ এবং ম্যানেজার কোনও ব্যবস্থা নেননি। ২১ মে কমিশনের তলবে হাজির হয়েছিলেন অনূর্ধ্ব ২৩ মহিলা ক্রিকেট দলের কোচ এবং টিম ম্যানেজার।