শিলং-এ ভাঙা হবে বিধান রায়ের বাড়ি

26

নিউজ ডেস্ক: মেঘালয়ের রাজধানী শিলংয়ের ঐতিহ্যবাহী বিধান রায়ের বাড়ি বাঁচানো সম্ভব হল না। আদালতের নির্দেশে সেখানে বিধান রায়ের স্মৃতি বলতে থাকবে একটি আবক্ষ মূর্তি। আপাতত ওই বাড়িটি এখন সার্কিট হাউস। বাড়ির বেশিরভাগ অংশ পুরনো হওয়ায় এবং সার্কিট হাউসে স্থানাভাব দেখা দেওয়ায় বাড়িটি ভেঙে নতুন করে গড়ার সিদ্ধান্ত নেয় মেঘালয় সরকার।

বিধান ভবন বাঁচাতে রাজ্যপালকে স্মারকপত্র দেওয়ার পাশাপাশি রবীন্দ্র অনুরাগী মালবিকা বিশারদ শিলং হাইকোর্টের তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৌমেন সেনের কাছে একটি অভিযোগপত্র জমা দেন। তার ভিত্তিতেই জনস্বার্থ মামলা শুরু হয়। প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায় শুধু নবীন বঙ্গের নন, আধুনিক শিলংয়েরও অন্যতম রূপকার। বিধান রায়ের বাবা প্রকাশচন্দ্র রায় শিলংয়ে ব্রাহ্ম সমাজের প্রচারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছিলেন। ১৯২০ সালে শিলং-এর লাবানে এসে বিধান রায় এই বাড়িটি তৈরি করেন। তিনিই শিলং শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথিকৃৎ। মালবিকা বিশারদ জানান, ১৯২৩ সালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর শিলং-এ থাকাকালীন বিধান ভবনে যেতেন। এমনকী, ওই বাড়িতে রবীন্দ্রনাথের জন্মদিনও উদযাপন করা হয়েছিল। ১৯২৯ সালে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু তৃতীয় বার শিলং সফরে এসে বিধান ভবনেই ছিলেন।

মালবিকা ওই বাড়ির ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনা করে, তাকে ঐতিহ্য ভবন ঘোষণা করা ও সংরক্ষণ করার কথা বলেন। মামলার শুনানির সময় আদালতের নির্দেশে মেঘালয় হেরিটেজ কর্তৃপক্ষ ভবনটি পরিদর্শন করে। তারা জানায়, মেঘালয় হেরিটেজ রেগুলেশনস অনুযায়ী বাড়িটি ঐতিহ্যবাহী ভবন হওয়ার প্রয়োজনীয় মানদণ্ড পূরণ করছে না। পাশাপাশি, ভবনটির বর্তমান অবস্থাও অত্যন্ত জরাজীর্ণ। পূর্ত দফতর আদালতে রিপোর্ট জমা দিয়ে জানায়, লাবান সার্কিট হাউসের প্রাঙ্গণে পরিকল্পিত বাগান তৈরি করে সেখানে বিধানচন্দ্র রায়ের মূর্তি স্থাপন করা যেতে পারে। এ সংক্রান্ত নকশা ও ছবি ইতিমধ্যে আদালতে জমাও দেওয়া হয়। সব দিক বিবেচনার পরে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি রেবতী মোহিত এবং বিচারপতি ওয়ানলুরা ডিয়েংডোর বেঞ্চ মামলা নিষ্পত্তির কথা ঘোষণা করে জানায়, যেহেতু ওই পুরনো ভবনের অবস্থা জরাজীর্ণ, তাই সেখানে নতুন ভবন বানাতেই হবে। তবে, যথাযোগ্য মার্যদায় বসানো হবে পশ্চিমবঙ্গের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা শিলং-এর অন্যতম রূপকার বিধানচন্দ্র রায়ের আবক্ষ মূর্তি ও স্মারক ফলক।