নিউজ ডেস্ক: ভয়াবহ বন্যায় অসমে মৃত্যু হয়েছে ৭৫ জনের। অসমের বিভিন্ন জেলায় বন্যাক্রান্তের হাহাকার। তারই মাঝে বন্যাক্রান্ত ২ হাজার মানুষকে উদ্ধার করে নায়কের মর্যাদা পাচ্ছেন শিবসাগরের শ্রবণকুমার। ১৯ জুলাই দিখৌ নদীর জলে প্লাবিত হয় একাধিক গ্রাম। নাজিরা মহকুমার বিস্তীর্ণ অঞ্চলও জলের তলায় চলে গিয়েছে। দুর্যোগের কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এই বিপদের মুখে কোনও সরকারি বা পেশাদার উদ্ধারকারী দল এলাকায় পৌঁছনোর আগেই ত্রাতার ভূমিকায় অবতীর্ণ হন এক সাধারণ দিনমজুর শ্রবণকুমার।
শ্রবণের বয়স ২৫ বছর, দশম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছিলেন। বন্যার ভয়াল রূপ দেখেই তিনি বুঝতে পারেন আসন্ন বিপদের কথা। নিজের বাড়ি জলমগ্ন থাকা সত্ত্বেও তিনি ভয়ে গুটিয়ে যাননি। রাজকুমার রাজগড়, মামু দাস, রবি রাজগড়, মিতু চৌধুরী, আনন্দ মাঝি, দীপক চৌধুরীকে নিয়ে মাত্র ছয়টি সাধারণ দেশি নৌকায় উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
কোনও আধুনিক সরঞ্জাম বা পেশাদার প্রশিক্ষণ ছাড়াই উদ্ধারকাজে নেমে পড়েন শ্রবণ ও তাঁর সঙ্গীরা। ঘুটঘুটে অন্ধকার এবং প্রবল স্রোতের বিপ্রতীপে দাঁড়িয়ে উদ্ধার করেন শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্ক মানুষকে। জলমগ্ন ঘরের ছাদের ফাঁক ও সিলিং থেকে বহু মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে আনে এই শ্রবণকুমারের দল। টানা উদ্ধারকাজে পাঁচটি গ্রামের প্রায় দুহাজার মানুষের জীবন বাঁচান তাঁরা।
উদ্ধারকাজ শেষে বাড়ি ফিরে শ্রবণ দেখেন, জলের তোড়ে তাঁর নিজের ঘরবাড়ি জলে ভেসে গিয়েছে। তার পরেও বন্যাকবলিত এলাকার মানুষদের কাছে শ্রবণের বার্তা— প্রাকৃতিক দুর্যোগের মোকাবিলায় প্রতিটি পরিবারের অন্তত একজন সদস্যের সাঁতার জানা অত্যন্ত জরুরি।