হানিমুনে মেঘালয়ে গিয়ে স্বামীকে খুন, হাড়হিম করা কাণ্ডে আত্মসমর্পণ সোনমের

19

নিউজ ডেস্ক: বিবেক দংশন! শেষ পর্যন্ত আদালতে আত্মসমর্পণ করলেন সোনম রঘুবংশী। স্বামী রাজা রঘুবংশী খুনের মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত। দিনটা ছিল ২০২৫ সালের ২৩ মে। হানিমুনে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জি বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়ে যান নবদম্পতি রাজা ও সোনম রঘুবংশী। পরে ২ জুন একটি গভীর খাদ থেকে উদ্ধার হয় রাজার দেহ। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পারে, আর্থিক লাভের জন্যই ‘খুন’ করা হয়েছিল রাজাকে। তাঁর স্ত্রী সোনম ও প্রেমিক রাজ কুশওয়াহা মিলে হত্যা করেছিল রাজাকে। ভাড়াটে খুনিদের দিয়েই স্বামীকে খুন করান সোনম ও তার প্রেমিক রাজ।

হানিমুনে গিয়ে মেঘালয়ের মতো জায়গায় এমন একটি ঘটনায় তোলপাড় হয়েছিল গোটা দেশ। প্রথমে ছিনতাই-সহ একাধিক যুক্তি সাজিয়ে খুনের দিক থেকে চোখ সরানোর চেষ্টা করেছিলেন সোনম রঘুবংশী। পরে পুলিশি তদন্তে ‘খুন’ প্রমাণিত হয়। এবং সোনম ও তাঁর প্রেমিককে গ্রেফতার করে শিলং পুলিশ। গত বছরের জুন মাসে গ্রেফতার করা হয়েছিল তাদের। গত ২৭ এপ্রিল ট্রায়াল কোর্ট সোনমকে জামিন দেয়। ২৯ জুন মেঘালয় হাইকোর্ট ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রাখে। এবং সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল মেঘালয় সরকার। ২৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্ট সোনমের জামিন বাতিল করে তিন সপ্তাহের মধ্যে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছিল। সেই নির্দেশ মেনেই শিলংয়ের ট্রায়াল কোর্টে আত্মসমর্পণ করেন সোনম রঘুবংশী। আদালত জানায়, অভিযুক্ত জামিনে বাইরে থাকলে বিচারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সেই কারণে হাইকোর্ট ও ট্রায়াল কোর্টের জামিনের নির্দেশ বাতিল করা হয়। একই সঙ্গে আগামী ছ’মাসের মধ্যে বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হলে সোনম নতুন করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন বলে স্পষ্ট করেন বিচারপতি। আদালতে হাজিরার পর বিচারবিভাগীয় হেফাজতে পাঠানো হয়েছে সোনম রঘুবংশী। মামলার বিচারপর্ব এখন শিলংয়ের ট্রায়াল কোর্টে চলছে।