৩ মাস অন্তর রাজ্য সরকারি কর্মীদের ঘুরতে যেতেই হবে! নির্দেশ সরকারের

76


নিউজ ডেস্ক:
রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা। ৩ মাস অন্তর পর্যটনে যেতে পারবেন রাজ্য সরকারি কর্মীরা। এই সময়ে কোনও বৈঠকে অংশ নিতে হবে না। শর্ত একটাই, রাজ্যের মধ্যেই পর্যটনে যেতে পারবেন সরকারি কর্মীরা। পর্যটন ক্ষেত্রে উন্নয়নের স্বার্থেই এমন সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের।

শুধু স্কুল, কলেজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্তরা এই ছুটি পাবেন এমনটা নয়। যাঁরা জেলাস্তরের অফিসার, পুলিশ, জেলাশাসক, বন বিভাগের আধিকারিক সহ জরুরি পরিষেবার সঙ্গে যুক্ত রাজ্য সরকারি কর্মীরাও এই ছুটি পাবেন পর্যটনে যাওয়ার জন্য।

এখন থেকে সরকারি আধিকারিক এবং কর্মীরা তিন মাস অন্তর সপরিবারে রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রে ঘুরতে যেতে পারবেন। রাজ্যের পর্যটনের বিকাশে প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তুমুল চর্চা শুরু হয়েছে। বিহার সরকারের এই সিদ্ধান্ত। জেনারেল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন ডিপার্টমেন্টের অতিরিক্ত মুখ্যসচিব বি রাজেন্দ্র বিহারের সরকারি কর্মীদের জন্য একটি বিশেষ নির্দেশিকা জারি করেছেন। যেখানে বলা হয়েছে, প্রতিটি দফতরের কর্মীদের কমপক্ষে বছরে তিনটি পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করতে হবে এবং সেই এলাকাগুলিতে ২দিন এবং ২রাত থাকতে হবে। সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবার এই ছুটি ঘুরতে যাওয়ার জন্য মঞ্জুর হবে। ছুটি থেকে ফেরার পর সেখানে থাকার ছবি এবং পর্যটন কেন্দ্র সংক্রান্ত তথ্য ও অভিজ্ঞতার খুঁটিনাটি তথ্য দিয়ে একটি রিপোর্ট জমা দিতে হবে জেলাশাসককে। এমনকি এই সময় কোনও সরকারি আধিকারিক কোনও পর্যালোচনা বৈঠক বা পরিদর্শন সংক্রান্ত কাজ করতে পারবেন না।

রাজ্য সরকারের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে, সরকারি কর্মীদের এই ভ্রমণের বিষয়টি সরকারি দায়িত্ব হিসাবেই গণ্য করা হবে। আসলে প্রশাসনের তরফে এই পদক্ষেপ নেওয়ার মূল লক্ষ্য হল সরকারি আধিকারিকদেরও স্থানীয় সংস্কৃতি, মানুষ এবং পর্যটন ব্যবস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত করা। যদি এইভাবে নিয়মিত রাজ্যের বিভিন্ন পর্যটনস্থল ঘুরে দেখেন, তাহলে তাঁরা স্থানীয় সমস্যাগুলি আরও ভালোভাবে বুঝতে পারবেন এবং সেই বিষয়ে বড় পদক্ষেপ নিতে পারবেন।

প্রসঙ্গত, বিহারে পর্যটন শিল্পকে আরও গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে সম্রাট চৌধরির সরকার। এই পর্যটনের ফলে স্থানীয় স্তরে অর্থনীতির আরও উন্নতি হবে। অনেক কম পরিচিত জায়গাগুলিরও পরিচিতি বাড়বে বলে মনে করছে সরকার।গত ৩০ দিনে সম্রাট চৌধুরির সরকার যে সব প্রকল্প এবং প্রশাসনিক ভোলবদলের ঘোষণা করেছে তা আগামী দিনে বিহারকে আমূল বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এমনকি মেয়েদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্রাট চৌধুরী সরকার চালু করেছে ‘পুলিশ দিদি’ প্রকল্প। এর মাধ্যমে স্কুল-কলেজ চত্বরে এবং জনবহুল এলাকায় মহিলা পুলিশ দল টহল দেবে, যাতে নারী নির্যাতনের মতো ঘটনা কমানো যায়।

সব মিলিয়ে একসময়কার জঙ্গলরাজ তকমা ভুলে এখন নতুন নতুন পন্থায় বিহারকে দেশের মানচিত্রে তুল ধরতে চাইছে বিহারের বিজেপি সরকার।