নিউজ ডেস্ক: ক্ষমতায় এসেই স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভোল বদলে দেওয়ার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। রেফার রোগ সারাতে কড়া দাওয়াই দিয়েছিলেন। এবার বিধাননগর হাসপাতালের লাইভ মনিটারিংয়ের ঘোষণা করলেন শুভেন্দু অধিকারী। হাসপাতালে দালাল চক্র রুখতে এবং রেফারের কোনও অভিযোগ থাকলে সরাসরি কন্ট্রোল রুমে লাইভ মনিটরিংয়ের সাহায্য তা দেখতে পাওয়া যাবে। পাশাপাশি রোগী বা চিকিৎসক এবং স্বাস্থ্য কর্মীদের অবস্থানও ধরা পড়বে এই লাইভ মনিটারিংয়ের মাধ্যমে।
শনিবার সার্ভিকালক ক্যানসারের টিকা কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের মোট ২৩৫টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ১৪-১৫ বছর বয়সি কিশোরীদের বিনামূল্যে প্রতিষেধকের সুবিধা দেওয়া হবে। রাজ্যে এই টিকাকরণ কর্মসূচি কেন্দ্রের তরফে ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৬৫০ ডোজ ভ্যাকসিন পাঠানো হয়েছে। ধাপে ধাপে মোট ৮৮০টি কেন্দ্রে এই কর্মসূচি চালানো হবে বলে নবান্ন সূত্রে খবর।
এই কর্মসূচির উদ্বোধনে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘মাত্র তিন সপ্তাহে অনেক কাজ এগিয়েছে। এসএসকেএম হাসপাতালে ১০০টি অতিরিক্ত বেডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। হাসপাতালগুলির রেফার রোগ রুখতে তৈরি হয়েছে কড়া সমন্বয় সূত্র।’ মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা, ‘রাজ্য সরকারের থেকে যারা মাত্র ১ টাকায় জমি নিয়েছেন, তাঁদের হাসপাতালের ১৫ শতাংশ বেড সাধারণ মানুষের জন্য তুলে রাখতে হবে। সরকারি হাসপাতালে অতিরিক্ত চাপ হলে, সেখান থেকে রেফার করা রোগীদের ওই বেডগুলিতে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিতে হবে।’
মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, রাজ্যের ১ কোটি ৩৬ লক্ষ পরিবারের প্রায় ৬ কোটিরও বেশি মানুষকে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর আওতায় আনা হচ্ছে। শুধু বাংলা নয়, এ রাজ্যের যারা বাইরে কাজ করতে যান, তাঁরাও দেশের যে কোনও প্রান্তে এই সুবিধা পাবেন। রাজ্যজুড়ে ৪৬৭টি জনৌষধি কেন্দ্র চালানো হবে এবং ‘অমৃত প্রকল্প’-এর মাধ্যমে দুরারোগ্য ব্যাধির ওষুধ মিলবে ভর্তুকি মূল্যে। স্বাস্থ্য পরিকাঠামো বাড়াতে উত্তরবঙ্গে ‘এইমস’ (AIIMS) গড়ার জন্য জমি খোঁজা শুরু হয়েছে এবং বাকি ৪টি জেলাতেও খুব দ্রুত মেডিকেল কলেজ তৈরি হবে বলে জানান তিনি।