যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে মাঝরাতে ফের মোছা হল মার্কসের উদ্ধৃতি

11

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: ফের সংবাদ শিরোনামে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কড়া নির্দেশের পর JU ক্যাম্পাসের একাধিক দেওয়াল থেকে রাজনৈতিক স্লোগান লিখন এবং গ্রাফিটি সাদা রঙ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। কিন্তু তারপর আবার‌ও দেওয়ালে স্লোগান এবং কার্ল মার্কসের উদ্বৃতি ফিরিয়ে এনেছিল বাম ছাত্র সংগঠনের সদস্যরা।

আগের গ্রাফিটি দেশবিরোধী হলেও কার্ল মার্কসের উদ্বৃতি তো আর কোনো দেশ বিরোধী বার্তা দেয় না, দাবি ছিল পড়ুয়াদের। কিন্তু মঙ্গলবার রাতে কার্ল মার্কসের উদ্বৃতির ওপরেও চলল সাদা প্রলেপ। উপাচার্য বা ছাত্র সংগঠনের দাবি, দেওয়াল মুছেছে পুর কর্মীরা। পড়ুয়াদের অভিযোগ, পুরসভার কর্মীদের সঙ্গে ছিল পুলিশ । কিন্তু উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের মুখে উল্টো সুর, পুরসভা দেওয়াল লিখন মুছবে জানা থাকলেও সঙ্গে যে পুলিশ থাকবে সেটা তিনি জানতেন না।

আরএসএফ যাদবপুর ইউনিটের সেক্রেটারি ইন্দ্রানুজ রায়ের অভিযোগ, ‘‘রাত সাড়ে ১২টা নাগাদ আমার কাছে খবর আসে, কলকাতা পুলিশ এবং কলকাতা পুরসভার লোক বলে পরিচয় দিয়ে যাদবপুর ক্যাম্পাসের ৪ নম্বর গেট দিয়ে বেশ কয়েক জন ক্যাম্পাসে ঢুকছে। তারা জানায় যে, পুরসভার লোক এসেছে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে দেওয়াল লিখন মুছতে।”

ইন্দ্রানুজের আরো দাবি, “এই ঘটনা জানার পরে হস্টেলে থাকা পড়ুয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ করি, কিন্তু খবর পাওয়ার পরেও ছাত্রছাত্রীরা হস্টেল থেকে বেরোতে পারেননি। কারণ, তাঁদের বেরোতে দেওয়া হয়নি। কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি। পরে গভীর রাতে যখন পড়ুয়ারা বেরোতে পারেন, তখন তাঁরা দেখতে পান বেশ কিছু দেওয়াল লিখন সাদা রঙের প্রলেপে মুছে দেওয়া হয়েছে। “

ছাত্র সংগঠনের দাবি, পুলিশ যদি বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে ঢুকতে চায় তাহলে তাদের উপাচার্য বা রেজিস্ট্রারের থেকে আগাম অনুমতি নিতে হয়। তারা প্রশ্ন তুলছেন এক্ষেত্রে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়েছিল কিনা।

উপাচার্য জানিয়েছেন ‘‘পুলিশকে ঢুকতে বারণ করা হয়েছিল। আমার কাছে লিখিত ই-মেলও আছে এ ব্যাপারে। মঙ্গলবার রাতেই পুরসভা থেকে তাঁকে জানানো হয়, তাঁরা বিশ্ববিদ্যালয়ের দেওয়াল মুছবে। “

তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ঢুকে পুরসভা স্লোগান মুছতে পারে কি না , মার্কসের উদ্ধৃতি মুছতে পারে কিনা সে ব্যাপারে তাঁর কোনও জ্ঞান নেই। ‌