এরা দল বেঁধে শিকার করে, খায় হাতির মাংস!

7

দল বেঁধে শিকারে দক্ষ এরা। গভীর অরণ্যে আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে হাতি শিকার করে তারা। হাতির মাংস, দাঁতের লোভে প্রায়ই জঙ্গলে চলে এদের তাণ্ডব। মঙ্গলবার আরও একটি পূর্ণবয়স্ক হাতিকে হত্যা করল এই চোরা শিকারিরা।

উত্তর-পূর্ব ভারতে এখনও কিছু কিছু মানুষ হাতির মাংস খায়। মাংসের লোভে অনেক সময় হাতি শিকার করে তারা। মঙ্গলবার ডিমরিয়ার টোপাতলি দিকচাক পাহাড়ে ঘটল এমনই এক ঘটনা। সকাল ৯টা নাগাদ পাহাড়ের পাদদেশে গরু চড়াচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। তখন গুলির শব্দ শুনতে পান তিনি। প্রত্যক্ষ করেন কিছু বুনোহাতি এদিক-ওদিক ছুটাছুটি করছে। এতেই সন্দেহ গাঢ় হয়। খবর দেওয়া হয় বনবিভাগকে।

হাতি হত্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় জনতা

সকাল দশটা নাগাদ বনবিভাগের দল ও স্থানীয় বাসিন্দারা জঙ্গলে প্রবেশ করেন। সারাদিন চলে অভিযান। এদিন বিকেলে গভীর জঙ্গলে উদ্ধার হয় একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির মৃতদেহ। চোরা শিকারিরা হাতির শুড় কেটে নিয়ে গেছে। বনবিভাগের লোকেরা দেখতে পান হাতিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। হাতির মাথায় গুলির চিহ্ন ছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ‘আমাদের ধারণা, মেঘালয় থেকে চোরা শিকারিরা অসমের জঙ্গলে প্রবেশ করেছিল। হাতিকে হত্যা করে শুড় কেটে নিয়ে যায়। মাংস ও দাঁতের লোভেই হাতিকে হত্যা করল চোরাশিকারিরা। এই ঘটনা প্রথম নয়। আগেও এরকম ঘটনা ঘটেছে।’
আগে এক সময় অসমে চোরাশিকারিদের নিশানায় ছিল গন্ডার। ২০১৬ সালের আগে কাজিরাঙা জাতীয় অভয়ারণ্যে অবাধে গন্ডার হত্যা হয়। রাজ্যে নতুন সরকার আসার পর গন্ডার শিকারে লাগাম টানে। চোরাশিকারিদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয় কঠোর পদক্ষেপ। দীর্ঘবছর রাজ্যে চোরাশিকারির উৎপাত প্রায় ছিলই না। কিন্তু টোপাতলি দিকচাক পাহাড়ে নতুন করে হাতি শিকারের ঘটনায় দেখা দিল তীব্র চাঞ্চল্য।