ট্যাক্সিভাড়া মেটাতে না পারায় খুন! হাতের ট্যাটু দেখে দিল্লির নারাইয়না হত্যাকাণ্ডের রহস্যভেদ

25

নিউজ ডেস্ক: দিল্লির নারাইয়না চকের কাছে এক যুবকের মৃতদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, মাত্র ১৫০০ টাকা ট্যাক্সি ভাড়া দিতে না পারায় ওই যুবককে খুন করা হয়েছে। ঘটনার পর প্রায় দু’সপ্তাহ ধরে অজ্ঞাতপরিচয় অবস্থায় মর্গে পড়েছিল তাঁর দেহ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নারাইয়না চকের কাছ থেকে দেহ উদ্ধারের পর ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা শুরু হয়। ফুটেজে একটি ট্যাক্সিকে সন্দেহজনকভাবে চিহ্নিত করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই ট্যাক্সিচালক রাজেন্দ্রের সন্ধান পায় পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে রাজেন্দ্র জানান, ঘটনার দিন তাঁর ট্যাক্সিতে দু’জন যুবক উঠেছিলেন। দু’জনেই মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। সফদরজং হাসপাতালে তাঁদের মধ্যে একজন নেমে যান। যাওয়ার সময় তিনি জানান, ওপর যুবক ট্যাক্সির ভাড়া মিটিয়ে দেবেন। কিন্তু কিছুটা পথ যাওয়ার পর ওই যুবক জানান, তাঁর কাছে টাকা নেই। অভিযোগ, ভাড়া না পাওয়ায় রাজেন্দ্র ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এরপর নিজের বাড়ির দিকে ট্যাক্সি নিয়ে যান। বাড়ির কাছাকাছি একটি জায়গায় গাড়ি থামিয়ে যুবককে নামিয়ে ফের ভাড়ার টাকা দাবি করেন রাজেন্দ্র। অভিযোগ, টাকা দিতে না পারায় ইট দিয়ে যুবকের মাথায় আঘাত করা হয়। পরে তাঁর দেহ ফেলে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় রাজেন্দ্রকে তাঁর স্ত্রী ও পুত্রও সহযোগিতা করেছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
এদিকে মৃত যুবকের পরিচয় জানতে পুলিশ তাঁর হাতে থাকা একটি ট্যাটুর দিকে নজর দেয়। সেখানে একটি ট্যাটু দেখতে পায়। সেই সূত্রে অভিযোগকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করে তদন্তকারীরা। তখনই সামনে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য—নিখোঁজ যুবকের স্ত্রী রেণু। মৃত যুবকের নাম আনন্দ।
অবশেষে আনন্দকে খুনের অভিযোগে ট্যাক্সিচালক রাজেন্দ্র, তাঁর স্ত্রী ও পুত্রকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।