নিউজ ডেস্ক: রাশিয়া থেকে তেল কেনার জেরে কি ভারতের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করছে আমেরিকা?
আমেরিকার নতুন নিষেধাজ্ঞা বিল ভারত সহ যেসব দেশ রাশিয়ার তেল ও গ্যাস কিনছে, তাদের ওপর চড়া শুল্ক আরোপের পথ প্রশস্ত করতে পারে। মস্কোর ওপর ওয়াশিংটনের চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এই পদক্ষেপ রফতানি ব্যয় বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিগত ধাপ পেরিয়ে এসেছে নতুন বিল। এই নতুন রাশিয়া নিষেধাজ্ঞা বিল-এর আওতায়, মার্কিন বাজারে ভারতের রপ্তানি পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
বিলের পক্ষে ২১৪-২১১ ভোট পড়েছে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে। এবার বিলের ওপর চূড়ান্ত ভোট গ্রহণ হবে। এর আগে, আগস্ট মাসে, সিনেট ৮৬-১১ ভোটে বিলটি পাস করেছিল। এই বিলের জেরে ভারতের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে সেটাই উদ্বেগের।
রাশিয়া বিষয়ক নিষেধাজ্ঞা বিলটি কী?
লিন্ডসে ও গ্রাহাম স্যাংশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট নামেও পরিচিত এই আইনের লক্ষ্য ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জেরে মস্কোর ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধি করা।
এই আইনের আওতায় রাশিয়ার নেতৃত্ব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও জ্বালানি খাতকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এ ছাড়া, এই বিলের মাধ্যমে ইরান স্যাংশনিং অ্যাক্ট-এর মেয়াদও বাড়ানো হবে, যার আওতায় ইরানের জ্বালানি খাতের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা অন্তর্ভুক্ত।
ভারত কীভাবে ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে পারে?
এই বিলটি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে এমন সব দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ক্ষমতা দেবে যারা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বা প্রাকৃতিক গ্যাসের বড় ক্রেতা, অথবা যারা নিষেধাজ্ঞা এড়ানোর ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়তা প্রদানকারী হিসেবে চিহ্নিত।
সিনেটে পাস হওয়া খসড়ায় রাশিয়ার তেল ও গ্যাসের শীর্ষ পাঁচ আমদানিকারক দেশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তার মধ্যে রয়েছে ভারত।
আলোচনার সময় ডেমোক্র্যাটিক প্রতিনিধি স্টেনি হোয়ার প্রস্তাব দেন ১০টি দেশের ওপর শুল্ক চাপানোর। এই দেশগুলোর তালিকায় ভারতের পাশাপাশি রয়েছে চিন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তান।
তবে এর অর্থ এই নয় যে, ভারতের ওপর ইতিমধ্যেই ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধানগুলো কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ওপর এই শুল্ক আরোপের আইনি ক্ষমতা অর্পিত হবে।
ভারত কেন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে?
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর পশ্চিমি নিষেধাজ্ঞার ফলে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের যে নতুন বিন্যাস তৈরি হয়েছে, তার প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেলের অন্যতম প্রধান ক্রেতা ভারত হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
রাশিয়া থেকে জ্বালানি নেওয়া দেশের ওপর আর্থিক চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে মস্কোর তেল ও গ্যাস-ভিত্তিক আয় কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন।
ভারতের ক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য প্রভাব পড়তে পারে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে পণ্য রপ্তানির ওপর। মার্কিন প্রশাসন যদি বিশেষ ক্ষমতা প্রয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়, তবে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় পণ্যের ওপর ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ফলে সেগুলোর খরচ অনেক বেড়ে যাবে।
এরপর কী হবে?
আমেরিকার হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস বা প্রতিনিধি পরিষদ বিলের প্রাথমিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে এবং বুধবার মূল বিলটির ওপর ভোট গ্রহণের কথা রয়েছে। হাউস যদি বিলটি পাস করে, তবে তা ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য হোয়াইট হাউসে পাঠানো হবে।
ততদিন পর্যন্ত, এই বিলের আওতায় ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বয়ংক্রিয় ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখে পড়তে হচ্ছে না।
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ অনুযায়ী, কংগ্রেস এমন একটি আইন বিবেচনার পর্যায়ে রয়েছে যা ট্রাম্পকে ভারত ও অন্যান্য দেশের ওপর ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের নতুন আইনি ক্ষমতা দিতে পারে।
বিরোধীদের সমালোচনা
আমেরিকার নতুন বিলের সমালোচনায় মোদীকে তোপ দেকে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে বলেছেন, মোদীর প্রিয় বন্ধু যখন আব কি বার ট্রাম্প সরকার-এর নীতি চাপিয়ে দেয়, তখন আপনি নতি স্বীকার করেন আর তার খেসারত দিতে হয় ১৪০ কোটি ভারতীয়কে! ভারতীয় পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের ১০০% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের হুমকিই প্রমাণ করে যে আপনার সরকারের পররাষ্ট্র ও বাণিজ্য নীতি কতটা শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয়েছে! প্রথমে ২৫% শুল্ক, তারপর ৫০%, আর এখন ১০০%-এর হুমকি। গতকাল ইউপিআই-এর এমডিআর সংক্রান্ত বিষয়ে যে নতি স্বীকার করা হয়েছে, তা আপনার সরকারের মেরুদণ্ডহীনতার আরেকটি প্রকট উদাহরণ! মোদীজি, বারবার আপনি আমেরিকার কাছে নতি স্বীকার করে চলেছেন!