নিউজ ডেস্ক: জ্ঞানেশকুমারের ইস্তফার দাবি তীব্র হচ্ছে। মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সফল বিক্ষোভের পর ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে বলেছেন, জ্ঞানেশকুমার ইস্তফা না দিলে গোটা দেশের জেন জি যাবে দিল্লিতে। এবার হবে যন্তরমন্তর টু। ১০ অক্টোবর দিল্লির যন্তরমন্তরে সমাবেশ করবে সিজেপি।
সমাজমাধ্যমে দীপকে লিখেছেন, জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে সারা ভারত থেকে ‘ককরোচ’রা দিল্লিতে মিছিল করে আসবে এবং ১০ অক্টোবর যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ দেখাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এটি একটি শান্তিপূর্ণ আন্দোলন হবে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন প্রত্যাশী প্রতিটি নাগরিকের এতে যোগ দেওয়া উচিত।
শিবাজি পার্কে সমাবেশের অনুমতি না দেওয়া সত্ত্বেও, শুক্রবার দুপুরের তীব্র গরম ও ব্যারিকেড উপেক্ষা করে বিপুল সংখ্যক তরুণ-তরুণী এই বিক্ষোভে অংশ নেন।
সিজেপি নেতা আজিঙ্ক শিন্ডে ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা স্থগিত করা এবং নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইনটি বাতিলেরও দাবি জানান।
শিবাজি পার্কে সমবেত জনতার উদ্দেশে দীপকে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে কোটি কোটি নাম বাদ দেওয়ার পর বিজেপি এমন সব রাজ্যে জয়লাভ করেছে, যেখানে তারা এমনকি নরেন্দ্র মোদীর জনপ্রিয়তার জোয়ারের সময়ও জিততে পারেনি।
সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা বলেন, সরকার এতটাই অযোগ্য যে, নিট পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে যন্তরমন্তরে আন্দোলনের পর মাত্র দুমাসের ব্যবধানে আমাদের আবার প্রতিবাদে নামতে হচ্ছে। দীপকের দাবি যে, ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির আসল উদ্দেশ্য এক দেশ, এক নির্বাচন, এক দল।

দীপকে বলেন, গত দুবছরে ভোটার তালিকা থেকে ১৩ কোটি ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালে ভোটারের সংখ্যা ছিল ৯৭ কোটি এবং লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ ও ইন্ডিয়া জোটের মধ্যে জয়ের ব্যবধান ছিল মাত্র ২ শতাংশ। দীপকের অভিযোগ, ভোটের ব্যবধান বাড়ানোর লক্ষ্যেই নির্বাচনের ঠিক ১৫ দিন আগে জ্ঞানেশকুমারকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালে মহারাষ্ট্র বিধানসভা নির্বাচনেও বিজেপি কারচুপির মাধ্যমে জয় ছিনিয়ে নেয়। কারণ সেসময় ভোটার তালিকায় ৪০ লক্ষ নতুন ভোটারের নাম যুক্ত করা হয়েছিল। দিল্লিতে আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ৪০ হাজার ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ৪ হাজার ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হয়েছিলেন।
সিজেপি নেতার অভিযোগ, তামিলনাড়ুতে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনের নির্বাচনী এলাকা থেকে প্রায় এক লক্ষ ভোটারের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং তিনি ১০,০০০ ভোটে পরাজিত হয়েছিলেন। একইভাবে পশ্চিমবঙ্গেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্বাচনী এলাকা থেকে ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ফলে তিনিও পরাজিত হয়েছেন।
সিজেপির কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন প্রবীণ অভিনেতা নাসিরুদ্দিন শাহ ও শাবানা আজমি, চলচ্চিত্র নির্মাতা বিশাল ভরদ্বাজ ও হংসল মেহতা, গায়ক ও সংগীত পরিচালক বিশাল দাদলানি এবং মহাত্মা গান্ধীর প্রপৌত্র তুষার গান্ধী।
সমাবেশে জাতীয় পতাকা ওড়ানো এবং ‘জ্ঞানু, তোমার কি গণতন্ত্রের ওপর কোনও ভরসা নেই?’, ‘জ্ঞানেশ ব্রো, জাস্ট রিজাইন’ ও ‘গদ্দার জ্ঞানু মাস্ট গো’-র মতো বার্তা লেখা পোস্টার হাতে তরুণরা ভিড় জমান।
বিক্ষোভকারীরা অভিনব সব উপকরণও সঙ্গে নিয়ে এসেছিলেন। মণীশ মণ্ডল নামে এক ছাত্র ‘মেলোডি‘ চকোলেটের মোড়ক দিয়ে তৈরি গয়না পরেছিলেন এবং দেবনাগরী লিপিতে “ফ্রড ডিটারজেন্ট পাউডার” লেখা একটি ব্যানার ছিল তাঁর হাতে।
মুম্বাইয়ে সিজেপি বিক্ষোভে পুলিশ ছিল শান্ত, কিন্তু দিল্লির ছবিটা ছিল অন্যরকম। দিল্লির যন্তরমন্তরে ঘোষিত অবস্থান করতেই দেয়নি পুলিশ। দফায় দফায় আটক করা হয় রাজ্যসভা সাংসদ মনোজ ঝা, দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অতিশী মারলেনা, সিপিএম নেতা এম এ বেবি, বৃন্দা কারাত, সমাজকর্মী যোগেন্দ্র যাদব, আইসা সভানেত্রী নেহা বরাকে।