এনআরসিতে ১৯৫১ ভিত্তিবর্ষ মণিপুরে

23


নিউজ ডেস্ক: এনআরসির জন্য ১৯৫১ সালকে ভিত্তিবর্ষ করার প্রস্তাব গ্রহণ মণিপুর বিধানসভার। ন্যাশনাল রেজিস্টার অফ সিটিজেনস বা এনআরসি করার ক্ষেত্রে ১৯৫১ সালকে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরা হবে, মণিপুরের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গোবিন্দাস কোন্থৌজাম জানিয়েছেন, বিধানসভার এই প্রস্তাবের ভিত্তিতে সরকার বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
গোটা দেশের সঙ্গে মণিপুরেও সম্প্রতি জনগণনা শুরু হয়েছিল। কিন্তু মৈতেই এবং নাগা জনগোষ্ঠীর আগে এনআরসি পরে জনগণনার দাবিতে তীব্র আন্দোলন শুরু করে। যার প্রেক্ষিতে মণিপুরে স্থগিত রাখা হয়েছে জনগণনা। এবার মণিপুর বিধানসভা সরকারিভাবে এনআরসির ভিত্তিবর্ষ স্থির করল ১৯৫১ সাল।
গোবিন্দাস কোন্থৌজাম বলেছেন যে, মণিপুর সরকার পুরনো নথিপত্র খুঁজে বের করার চেষ্টা করছে এবং বিষয়টি ভারত সরকারের কাছে তুলে ধরবে। এরপরই স্পষ্ট করে জানিয়ে দেন, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া রাজ্য সরকার এককভাবে এনআরসি বাস্তবায়ন করতে পারে না।
২০২২ সালের ৫ আগস্ট মণিপুর বিধানসভার প্রস্তাব অনুযায়ী মণিপুর রাজ্য জনসংখ্যা কমিশন ইতিমধ্যেই কার্যকর রয়েছে। কনথৌজাম অসমের উল্লেখ করে বলেন, ওখানে এনআরসি প্রক্রিয়াটি আইনি জটিলতায় আটকে আছে।
গোবিন্দাস বলেছেন, কেন্দ্রের কাছে বিষয়টি এমনভাবে ও সতর্কতার সঙ্গে উত্থাপন করতে হবে যাতে অসমের মতো মণিপুরেও এই প্রক্রিয়াটি ব্যর্থ না হয়।
অবৈধ অভিবাসন সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে কোন্থৌজাম জানান যে, মণিপুরে এপর্যন্ত ২৪,৪৭৫ অবৈধ অভিবাসীকে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে চান্দেল জেলায় ১৪,৩৭০ জন, কামজং-এ ৬,৫৪৫ জন এবং টেংনৌপালে ৩,৫৬০ জনকে শনাক্ত করা হয়েছে।
শনাক্ত হওয়া ২৪,৪৭৫ জন অবৈধ অভিবাসীর মধ্যে ১৪,৯৯২ জনকে তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বাকিরা রাজ্যের বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন।
কামজং জেলায় শনাক্ত হওয়া ৬,৫৪৫ জন অভিবাসীর মধ্যে ৫,৩৭৮ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং অবশিষ্ট ১,১৬৭ জনকে সরকারি শিবিরে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
তেংনৌপালে শনাক্ত হওয়া ৩,৫৬০ জন অভিবাসীর মধ্যে মাত্র ১৪ জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। বাকি ৩,৫৪৬ জনকে ভারত-মায়ানমার সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং তাদের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের পর সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারের তত্ত্বাবধানে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
চান্দেল জেলায় শনাক্ত হওয়া ১৪,৩৭০ জন অভিবাসীর মধ্যে ৯,৬০০ জনকে মায়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রী জানান, অবশিষ্ট ৪,৭৭০ জনের মধ্যে ১,৩০৮ জনের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।
বাকি অভিবাসীদের এই তিনটি জেলার বিভিন্ন অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। কামজং জেলায় তাদের নামলি, ওয়াংলি, কাকা, জোরো, ইকো, স্কিপি, হুইমিন থানা এবং ফাইকোহ এলাকায় রাখা হয়েছে।
তেংনৌপালে ৩,৫৪৬ জন অভিবাসী আন্তর্জাতিক সীমান্ত সংলগ্ন সাডাং গ্রাম এলাকায় অবস্থান করছেন। অন্যদিকে চান্দেলের অভিবাসীদের মোলচাম, গামফাজোল, খাংতুং, এল নামপাও, ইয়াইঙ্গোল, বংজাং, খেলজাং, নিউ লাজাং এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে রাখা হয়েছে।
মণিপুর সরকার সংশ্লিষ্ট ডেপুটি কমিশনারদের নির্দেশ দিয়েছে যেন শনাক্ত হওয়া অবৈধ অভিবাসীদের স্থানীয় ভারতীয় জনগোষ্ঠী থেকে আলাদা রাখা হয়।