‘দুশ্চিন্তা দূর হবে’, কাঁটাতারের অপেক্ষায় সীমান্ত জেলাগুলি

6

যেমন প্রচার। সরকারে এসেই তেমন কাজ। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারহীন এলাকায় কাঁটাতার লাগানোর জন্য বিএসএফ-কে জমি দেবে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকার। মন্ত্রিসভার প্রথম প্রশাসনিক বৈঠকেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে ৪৫ দিনের মধ্যেই কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শেষ হবে। এরপর কী বলছেন ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী জেলাগুলির বাসিন্দাদের একাংশ? দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা স্বস্তিতে। প্রায় ২৫০ কিলোমিটার জুড়ে এই জেলার সীমানা। এর মধ্যে প্রায় ২৫-২৮ কিলোমিটার এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। বলা ভালো কাঁটাতার দেওয়া সম্ভব হয়নি BSF-এর। কারণ, এই জায়গায় কোথাও গ্রাম রয়েছে। ফলে জমি জটে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার কাজ।

শুধু তাই নয়। বাংলাদেশে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর দক্ষিণ দিনাজপুরের বিভিন্ন সীমানা এলাকায় BSF যখনই উদ্যোগ নিয়েছে কাঁটাতারের বেড়া দিতে তখনই বাধা দিয়েছে বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড। এবার পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি সরকারের সিদ্ধান্তে অনেকটাই স্বস্তিতে এই এলাকার বাসিন্দারা। দক্ষিণ দিনাজপুরের ভাটপাড়া শিবরামপুর এলাকার বাসিন্দা বীরেন্দ্রনাথ পাহানের মতে, ‘মাঝে মধ্যেই বাংলাদেশিরা চলে আসে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে সুবিধা হবে।’ সীমান্ত এলাকারই বাসিন্দা প্রীতম বর্মনের কথায়, কাঁটাতার হলে ভালোই হবে। আগে বাংলাদেশের বর্ডার গার্ড বাধা দিয়েছিল বিএসএফকে। ফলে কাঁটাতার লাগানো যায়নি।’

রাজ্য সরকারের নয়া সিদ্ধান্তে খুশি কোচবিহারের মেখলিগঞ্জের সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারাও। দীর্ঘদিন ধরে মেখলিগঞ্জ ব্লকের একাধিক অঞ্চলে উন্মুক্ত সীমান্ত থাকার কারণে চোরাচালান, অনুপ্রবেশ ও আন্তর্জাতিক অপরাধমূলক কাজের অভিযোগ ছিল ভুরি ভুরি। পাচারে বাধা পেলে বা বিএসএফ কোনও বাংলাদেশিকে গ্রেফতার করলে মাঝেমধ্যেই খোলা সীমান্ত দিয়ে প্রতিশোধ নিতে ভারতীয় কৃষকদের তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। পাশাপাশি ফসল নষ্ট করে অবাধে গোরু পাচারের ফলে ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছিল সীমান্তবর্তী এলাকার বাংলার কৃষকদের। মেখলিগঞ্জের দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা সহ প্রায় ২০ কিলোমিটার খোলা সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরেই পাচার ও অনুপ্রবেশের করিডর হিসেবে পরিচিত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি ছিল, দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে সীমান্ত সুরক্ষা জোরদার করা হোক। জমি জটে দীর্ঘদিন ধরে সেই কাজ আটকে ছিল। এবার সেখানে কাঁটাতার দেওয়ার কাজ শুরু হবে তাই মঙ্গলবারই সীমান্ত পরিদর্শন করেন বিএসএফ-এর জওয়ানরা।

রাজ্য সরকারের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে জমি দিতে রাজি মালদহের কৃষকদের একাংশ। হবিবপুর বিধানসভার ধুমপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের জোত কুবের এলাকার কৃষকদের অভিযোগ, ‘আগের তৃণমূল সরকার বহুবার কৃষকদের কাছ থেকে জমি অধিগ্রহণ করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিছু জমি অধিগ্রহণ করেছিল। তার মধ্যে কিছু জন টাকাও পেয়েছে আবার অনেকেই টাকা পায়নি জমি অধিগ্রহণ করতে বারবারই আগের সরকার তেমন ভাবে জোর দিচ্ছিল না।’ জমি দিতে রাজি কৃষকরা বলছেন, কাঁটাতার না থাকায় বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা জমির ফসল, পাম্প মেশিন চুরি করত। মুর্শিদাবাদের সাগরপাড়ার বাসিন্দারাও চাইছেন দ্রুত কাঁটাতারের বেড়া।