রেফার রোগের ‘চিকিৎসা’য় মুখ্যমন্ত্রী, ময়দানে নামালেন চিকিৎসক বিধায়কদের

30

১৩ মে, ২০২৬ ,কলকাতা : পশ্চিমবঙ্গে রেফার রোগটা পরিচিত। চিকিৎসার ক্ষেত্রের গভীরে কার্যত ‘ক্যান্সারের’ আকার নিয়েছে রোগীদের রেফার নীতি। তৃণমূল সরকারের আমলে বারবার রোগীদের রেফার নিয়ে অভিযোগ উঠেছে। দেখা গেছে রোগীর পরিবার বেড পাচ্ছে না অথচ নেতা-মন্ত্রীদের জন্য বেড মজুত। কিংবা নেতার রেফারে তাঁর স্বজন বেড পেয়েছেন। এমন একাধিক অভিযোগ চেনা। শহর কলকাতার একাধিক মেডিক্যাল কলেজের পাশাপাশি জেলার মেডিক্যাল গুলিতেও রেফার রুখতে একাধিকবার কড়া নির্দেশেও বাস্তবের চিত্রটা বদলায়নি। এবার পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার। বুধবার বিজেপির ৭ চিকিৎসক বিধায়ককে নিয়ে বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। চিকিৎসাক্ষেত্রে বহু পরিচিত ‘রেফার ব্যাধি’র নিরাময়ে দ্রুত বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন চিকিৎসক বিধায়কদের থেকে বেশকিছু পরামর্শও নেন তিনি। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া যেন রেফার না করা হয়। রেফার করার পরও যেন সেখানে হয়রানির শিকার না হতে হয় তা গুরুত্ব দিয়ে দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে ছিলেন বেহালা পশ্চিমের বিজেপি বিধায়ক ইন্দ্রনীল খাঁ। তিনি জানিয়েছেন, স্বাস্থ্যে ঘুঘুর বাসা ভাঙতে দ্রুত বিষয়টি দেখতে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন বেডের সমস্যা হয়? আগামী ২দিনের মধ্যেই পুরো বিষয়টি খতিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে জানাতে হবে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে রাজ্যের চিত্রটা কেমন।

আগে বহুবার দেখা গেছে জেলা বা মহকুমা হাসপাতাল থেকে জরুরি রোগী, এমনকি সদ্যোজাত শিশুদেরও উপযুক্ত কারণ ছাড়া কলকাতার বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজগুলিতে পাঠানো হচ্ছে। তৎকালীন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এই প্রবণতা রুখতে বারবার কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে এবং সুপারদের নজরদারির নির্দেশ দিয়েছে। চালু করা হয়েছিল সেন্ট্রাল রেফারেল সিস্টেম। রেফারেল কমাতে এবং ডিজিটাল বেড মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কলকাতার ৫টি প্রধান হাসপাতালে (মেডিক্যাল কলেজ, SSKM, RG Kar, NRS, National মেডিক্যাল) সেন্ট্রাল রেফারেল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কিন্তু এত কিছু পরও স্বাস্থ্য ক্ষেত্রের আসল রোগটা সারানো গেছে কি? এবার নয়া সরকার কতটা স্বাস্থ্যক্ষেত্রে ‘চিকিৎসা’ করতে পারে। সেটাই দেখার।