‘আমরা স্বাধীনতা পেলাম’! কোন স্বাধীনতার কথা বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

115

১৩ মে, ২০২৬ : বিরোধী-শাসক মিলিয়ে বুধবার বাংলা বিধানসভায় শপথ নিলেন ১৪৩ বিধায়ক। শপথ ঘিরে সরগরম বিধানসভায় তৈরি হল নানা মূহূর্ত। তবে এদিন বিধানসভার ভিতরে-বাইরে সৌজন্যের ছবিই ছিল বেশি। বিধানসভার ভিতরে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে একান্তে কথা বললেন মালদহের রতুয়ার বর্ষীয়ান তৃণমূল বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। সৌজন্য বিনিময় করছেন শুভেন্দু অধিকারী ও আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। বিধানসভার বাইরে কামারহাটির তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সৌজন্য বিনিময় করলেন ব্যারাকপুরের বিজেপি বিধায়ক কৌস্তভ বাগচি।

২৬-এর নির্বাচনে পরাজয়ের পর কেউ প্রকাশ্যে, কেউ আড়ালে ধীরে ধীরে মুখ খুলছেন তৃণমূলের নেতারা। এই তালিকায় রয়েছেন জাতীয় মুখপাত্র থেকে জেলার শীর্ষ নেতা, একাধিক পুরসভার কাউন্সিলর থেকে নিচুতলার কর্মী। সামাজিক মাধ্যমে চোখ রাখলেই তাদের উগরে দেওয়া ক্ষোভ জ্বলজ্বল করছে। ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজনকে শোকজ করে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে পদক্ষেপও করেছে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব।

এই আবহেই বিধানসভায় বিধায়কদের শপথের দিন বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময়ের প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেছেন, তাঁকে ব্যক্তিগতভাবে অনেক তৃণমূল বিধায়কই নাকি বলেছেন, ‘আমরা স্বাধীনতা পেলাম’।

বিরোধী বিধায়কদের ভাঙিয়ে শাসক দলে নিয়ে আসার রাজনৈতিক ‘সংস্কৃতি’ তৃণমূল জমানায় বাংলায় আকছার দেখা গিয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে এই অসৌজন্যকে নিজেদের শক্তি জাহিরের অন্যতম হাতিয়ার করা হয়েছিল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। বুথ ফেরত সমীক্ষায় বিজেপির ক্ষমতা দখলের ইঙ্গিত মিলতেই রাজনীতির আলোচনায় অনেকেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন, এবারেও ভোটের ফল প্রকাশের পর সেই ছবিই হয়তো অবশ্যাম্ভাবী হয়ে উঠবে।

যদিও বঙ্গ বিজেপি আগেই ঘোষণা করেছে, যে কোনও স্তরের তৃণমূল নেতাদের জন্য তাদের দরজা বন্ধ। শুধু তাই নয়, খোদ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় দাবি করেছেন, আগামী দিনে তৃণমূল দলটাই উঠে যাবে। তবে তৃণমূল দলের কী হবে সে তো ভবিষ্যতের গর্ভে, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের দাবি নিঃসন্দেহে তৃণমূলের অন্দরে জ্বলে ওঠা ক্ষোভের আগুনকে উসকে দেবে তা বলাই বাহুল্য।