১৫ লাখে কিনে ২০ লাখে বিক্রি! প্রশ্ন ফাঁসে সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার নাসিকের পড়ুয়া

17

১৩ মে,২০২৬, কলকাতা : নিট ইউজি পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের তদন্তে নেমে নাসিক থেকে একজনকে গ্রেফতার করল সিবিআই। ধৃত মহারাষ্ট্রের নাসিকের বাসিন্দা শুভম খৈরনার। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ, সে পুনের একটি সন্দেহভাজনের কাছ থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রটি কিনেছিল ১৫ লক্ষ টাকায়। পরে সেটি ২০ লক্ষ টাকায় সেটি বিক্রি করে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, এই প্রশ্নপত্রই পরবর্তীতে দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে হরিয়ানার গুরুগ্রাম, রাজস্থানের জয়পুর ও সিকার। সিকার কোচিং বা প্রস্তুতির কেন্দ্র হিসেবে সুপরিচিত এবং সেই সঙ্গে জম্মু ও কাশ্মীর, বিহার ও কেরলেও ছড়িয়ে পড়ে প্রশ্নপত্র।

নাসিকের ইন্দিরা নগর এলাকার বাসিন্দা ৩০ বছরের শুভম খৈরনার ‘ব্যাচেলর অফ আয়ুর্বেদিক মেডিসিন অ্যান্ড সার্জারি’-র একজন শিক্ষার্থী। শুভম একটি এনক্রিপ্টেড বা সুরক্ষিত মেসেজিং অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই প্রশ্নপত্রটি আদান-প্রদান করেছিল।

দেশজুড়ে প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে হইচইয়ের পর গ্রেফতারি এড়াতে চুল কেটে বেশভূষা পরিবর্তন করেছিল শুভম। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। একটি মন্দিরে যাওয়ার পথে সে ধরা পড়ে যায়।

যদিও ধৃত শুভমের পরিবারের পক্ষ থেকে সমস্ত অভিযোগই অস্বীকার করা হয়েছে। শুভমের বাবা মধুসূদন খৈরনারের দাবি, শুভমের বিরুদ্ধে তোলা সমস্ত অভিযোগই ভিত্তিহীন। প্রশ্নপত্র ফাঁস চক্রের সাথে শুভমের কোনো ধরনের সংযোগ নেই। তবে তিনি এও বলেন, যদি তদন্তে তার ছেলের নাম উঠে এসে থাকে তবে সত্য উদ্ঘাটনের স্বার্থে একটি সুষ্ঠু ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত হওয়া উচিত।

সূত্রের খবর, প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে পরীক্ষার প্রায় ৪৫ ঘণ্টা আগে প্রশ্নপত্রটি ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছিল। ঘটনাটি প্রথম প্রকাশ্যে আসে যখন কেরলে সিকারের এক শিক্ষার্থী তার বাবাকে একটি অনুমানমূলক প্রশ্নপত্রের পিডিএফ কপি পাঠায়। ওই শিক্ষার্থীর বাবা সিকারেই একটি পিজি বা ছাত্রাবাস পরিচালনা করেন।

প্রাথমিক তদন্তে আরও জানা গিয়েছে, সিকারের কয়েকটি কোচিং সেন্টার তাদের বাছাই করা কিছু শিক্ষার্থীকে এই অনুমানমূলক প্রশ্নপত্র ব্যবহার করে নিট পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে বলেছিল। কোনও কোনও পরীক্ষার্থী প্রশ্নপত্রের পিডিএফ কপি পেয়েছিল আবার কাউকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রের হার্ড কপিও দেওয়া হয়েছিল।

জানা গিয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি গোচরে আসার পর শিক্ষকদের একাংশ প্রথমে একটি অভিযোগ দায়ের করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সিকার পুলিশ তা গ্রহণ বা নথিভুক্ত করতে অস্বীকার করে বলে অভিযোগ। পরবর্তীতে তারা এনটিএ-কে ইমেইলের মাধ্যমে বিষয়টি জানায় এবং এনটিএ ইন্টেলিজেন্স ব্যুরো-কে বিষয়টি অবহিত করে। এরপর আইবি রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ-কে এই ঘটনার তদন্ত করার নির্দেশ দেয়।

গত ৮ মে, এসওজি সিকারের কয়েকজনকে প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে চিহ্নিত করে এবং জানা যায় এই জালিয়াতি চক্রের সংযোগ হরিয়ানা এবং নাসিক পর্যন্ত বিস্তৃত।

এই ঘটনায় রাজস্থানের স্পেশাল অপারেশনস গ্রুপ সন্দেহভাজন ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এদের মধ্যে রয়েছে এই জালিয়াতি চক্রের মাস্টারমাইন্ড মণীশ যাদব এবং রাকেশ মান্ডওয়ারিয়া।

প্রাথমিকভাবে জানা গিয়েছে, রাকেশ মান্ডওয়ারিয়ার সঙ্গে সিকারের একটি পরামর্শদাতা কেন্দ্রের যোগসূত্র রয়েছে।