তৃণমূলের পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে মমতা-অভিষেক

116

১৫ মে, কলকাতা : কাল বৈঠক করেছিলেন সাংসদদের সঙ্গে। আজ দলের পরাজিত প্রার্থীদের নিয়ে বৈঠকে বসতে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৈঠকে ডাকা হয়েছে জেলার নেতাদের। বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলের ভরাডুবির পর কেন্দ্র ধরে ধরে পর্যালোচনা করতে চান তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব। খবর জোড়াফুল শিবির সূত্রে। বৈঠকে থাকার কথা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

বিধানসভা নির্বাচনে দলের খারাপ ফলের তৃণমূলের চ্যালেঞ্জ এখন সংগঠনকে আগের মত শক্তিশালী রাখা। একদিকে এই পরাজয়ের জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন বেশ কয়েকজন। মুখে কিছু না বলেও অনেকেই নিষ্ক্রিয়ও হয়ে পড়েছেন। আবার অনেক জায়গাতেই তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা ঘরছাড়া বলে অভিযোগ।

ময়দান না ছেড়ে ঘুরে দাঁড়াতে বারবার বার্তা দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই মনে করছেন, ভোট পরবর্তী অশান্তি মামলায় গতকাল হাইকোর্টে হাজির হয়ে দলেরই কর্মীদের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন তিনি। এর মধ্যেই কালীঘাটে আজকের বৈঠক বেশ গুরুত্বপূর্ণ হতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

নির্বাচনে বিজেপির একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভে তৃণমূলকর্মীদের অনকেই গেরুয়া শিবিরের দিকে ঝুঁকেছেন। সেই সময় দাঁড়িয়ে গতকাল ভিডিও বার্তা দিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘তৃণমূল কংগ্রেস এমন একটি দল যার জন্ম হয়েছে রাজপথের ধুলোয়। আন্দোলনের মাধ্যমে, লড়াইয়ের মাধ্যমে…এ হল অন্য এক অগ্নিপরীক্ষা। সোনা যেমন আগুনে পুড়ে খাঁটি হয়, আমাদের সংগঠনকে, তৃণমূলের সর্বস্তরের সৈনিকদেরকেও এই অগ্নিপরীক্ষার মধ্য দিয়ে আরও শক্তিশালী হয়ে উঠতে হবে।’

মমতা ও অভিষেক যখন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে বার্তা দিচ্ছেন, তখনই তৃণমূলের অন্দরে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কাঁটা ফের মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। এ নিয়েও ভিডিওতে বার্তা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, ‘একজোট হয়ে আমাদের আগামী দিন কাজ করতে হবে। আমাদের পতাকাটা যখন জোড়াফুল এবং আমাদের লড়াই সংগ্রামের মধ্য দিয়ে যখন জন্ম, তখন মাথায় রাখতে হবে, আমাদের পতাকাটা সসম্মানে খুব শিগগির আকাশে ওড়ানোর দায়িত্বটা প্রত্যেক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী-সমর্থককে নিতে হবে। জেলা সভাপতি ও জেলা নেতৃত্বদের নিয়ে মিটিং, সভার আয়োজন আপনারা করুন, কিন্তু সেখানে কেউ কোনও উস্কানিমূলক কথা বলবেন না, এটা আমাদের কৃষ্টি সংস্কৃতি নয়। আমাদের সভা হবে শান্তির বার্তা, সম্প্রীতির বার্তা, ঐক্যের ডাক দেওয়ার জন্য।’

এরপরই এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে আন্দোলনের কর্মসূচি স্থির করে দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘রাজনীতির লড়াই লড়তে হবে ময়দানে। দলীয় কার্যালয়গুলি পুনরুদ্ধার করতে হবে। সেখানে বসতে হবে, মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। এবং নতুন করে দলীয় কার্যালয়গুলি খুলে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে আমাদের কর্মসূচি নিতে হবে। সকল কর্মী সমর্থকদের একজোট করে আপনারা ব্লকে, টাউনে বিভিন্ন এলাকায় বিজেপির সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ২-৪ দিনের মধ্যে থানায় একটি ইন্টিমেশন জমা দিয়ে একটি প্রতিবাদ মিছিল করুন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কথা বলেন, বিপদের সময় যে আগে বুক পেতে দাঁড়ায়, সেই তো আসল সৈনিক।’

শুক্রবার কালীঘাটে বৈঠক। সেই বৈঠকে হারের পর্যালোচনার পাশাপাশি উঠতে পারে সাংগঠনিক চ্যালেঞ্জ ও গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ইস্যু। কী বার্তা দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, সেদিকেই নজর বাংলার রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।