রথীন্দ্রনাথ হলেন স্পিকার, মুখ্যমন্ত্রীর বার্তার পাল্টা বিরোধীদের

9

১৫ মে ২০২৬: সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার স্পিকার নির্বাচিত হলেন রথীন্দ্রনাথ বসু। শুক্রবার বিধানসভায় তাঁর নাম প্রস্তাব করেন মুখ্যমন্ত্রী। অন্য কোনও মনোনয়ন জমা না পড়ায়, সর্বসম্মতিক্রমে তাঁকে বেছে নেওয়া হয়। প্রথা মেনেই তাঁকে অধ্যক্ষের আসনে নিয়ে গিয়ে বসান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ও বিরোধী দলনেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ছিলেন প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও।

তবে স্পিকার নির্বাচনের আগেই সুর কাটে পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায়। প্রথমে বন্দে মাতরম-জয় শ্রীরাম স্লোগানের পরই তৃণমূল বিধায়কদের উদ্দেশ করে চোর স্লোগান দেওয়া হয়। কক্ষ ত্যাগ করেন বিরোধী বিধায়করা। কিন্তু স্পিকার নির্বাচনের প্রথা পূরণ করতে ওয়াক আউট করেও ফিরে আসতে হয় তাঁদের।

মুখ্যমন্ত্রী বলতে উঠেই স্পষ্ট করে দেন, ‘বিরোধীদের প্রতিবাদ থাকবে নিশ্চয়। বানচাল করার প্রয়াস থেকে বিরত থাকবেন আশা করব। হাউস বিলংস টু অপোজিশন। আমরা কনস্ট্রাক্টিভ অপোজিশন চাই। বহুদলীয় গণতন্ত্রের বিরোধীদের প্রাধান্য দেওয়া উচিত। গঠনমূলক বিরোধী চাই আমরা। ভাষা প্রয়োগের শালীনতা চাই।’ বক্তব্য রাখতে গিয়ে পূর্বের প্রসঙ্গেরও উল্লেখ করেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, ‘এটা মারামারি করার জায়গা নয়। এগারো মাস বিরোধী দলনেতাকে হাউস-এর বাইরে রাখা, শারীরিকভাবে হেনস্থা এসব চাই না। সরকার ও বিরোধী পক্ষ ৫০-৫০ ভাগে অংশ নেবেন।’

এরপরই বক্তব্য রাখেন বিরোধী দলনেতা। তৃণমূলের ঘরছাড়াদের ঘরে ফেরাতে আর্জি জানান তিনি। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘আমাদের কর্মীরা ঘরছাড়া। ভয় চার গুণ আজ বেড়ে গিয়েছে। ভরসা নেই। সেই ব্যবস্থা করুন যাতে ভরসা ফিরে আসে। স্বৈরাচারের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি।’

উত্তরে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা, ‘আমার তো ঘরছাড়া কেউ আছে বলে জানা নেই। DGP-র কাছে তালিকা দেবেন। পুলিশ তাঁকে বাড়ি ফেরাবে। ২০২১ সালে সাড়ে বারো হাজার FIR হয়েছিল, তাদের নাম যদি থাকে, তাহলে জেলে পাঠানো হবে। না থাকলে বিজেপি বিধায়ক নিজে গিয়ে বাড়ি দিয়ে আসবেন।’

গতকালই শেষ হয় নব নির্বাচিত বিধায়কদের শপথ। এরপরই আজ থেকে শুরু হয়ে গেল অধিবেশন। প্রথমে বিরোধীদের ওয়াক আউটে সুর কাটলেও পরে অবশ্য সুরটা বেঁধে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই।