EXCLUSIVE: হিন্দুরাই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ: দিলীপ শইকিয়া

65

লক্ষ্যজিত গোহাই, গুয়াহাটি: ‘একমাত্র সনাতনের মধ্যেই সেই শক্তি নিহিত রয়েছে, যে শক্তি সবাইকে একছাতার তলায় নিয়ে আসতে পারে। সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে চলতে পারে। সত্যি বলতে কী, হিন্দুরাই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ।’ বিধানসভা নির্বাচনের পর NKTV কে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে এই মন্তব্য করেন অসম রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ শইকিয়া

হিন্দু নেতা দিলীপ শইকিয়া
দিলীপ শইকিয়া, রাজ্য বিজেপি সভাপতি, অসম (ছবি: নিজস্ব)

বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়

গত ৯ এপ্রিল অসমে অনুষ্ঠিত হয়েছিল বিধানসভা নির্বাচন। ৪ মে ঘোষণা হয় ফলাফল। এবারের নির্বাচনে রীতিমতো চমক দিল ভারতীয় জনতা পার্টি। ১২৬টি আসনের মধ্যে এনডিএ জোট পেয়েছে ১০২টি আসন। কংগ্রেস ১৯টি আসনেই সীমাবদ্ধ থাকে। ফলাফল ঘোষণার আগে বিরোধী মহাজোট দাবি করেছিল, তারাই এবার দিসপুরে সরকার গঠন করবে। কিন্তু বাস্তবে জনাদেশ গিয়েছে বিজেপির অনুকূলে। এই প্রথম অসমে ৮২টি আসনে জয়ী হন বিজেপি প্রার্থীরা। এ ব্যাপারে দিলীপ শইকিয়া বলেন, ‘মানুষ উন্নয়ন ও সুরক্ষার জন্য বিজেপিকে ভোট দিয়েছেন। এই জয় প্রমাণ করে দিল যে মানুষ আর কংগ্রেসের সঙ্গে নেই।’

হিন্দু-মুসলিমের রাজনীতি

ভোট হবে। কিন্তু সাম্প্রদায়িক রাজনীতি হবে না, তা কি হয়? সদ্য সমাপ্ত নির্বাচনেও দেখা গেল সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ। যার পটভূমি তৈরি করেছিলেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ডঃ হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। মিঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে কার্যত জেহাদ ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বিজেপি বার বার বলেছিল, ‘আমরা অসমের স্থায়ী মুসলমানদের বিপক্ষে নই। আমরা বিরোধীতা করছি একমাত্র বাংলাদেশি মিঞা মুসলিমদের বিরুদ্ধে।’ বাংলাদেশি প্রবজনকারী মুসলিমরাই অসমের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি ও সমস্যা। নির্বাচনে তা ফলাও করে মানুষের মধ্যে তুলে ধরেছিল গেরুয়া শিবির। আর এর সুফলতাও পেয়েছে তাঁরা। হিন্দু-মুসলিমের এই রাজনীতি নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া সাফাই দিয়ে বলেন, ‘আমরা মুসলিম বিরোধী নই। আমাদের সংগঠনে অনেক মুসলিম কর্মী রয়েছেন। আমরা মিঞা মুসলিমদেরই বিরোধীতা করছি।’

‘কংগ্রেস ধর্মনিরপেক্ষ নয়’

এবারের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস বড় অসম গঠনের বার্তা দিয়েছিল। যে অসমে থাকবে না ধর্ম, ভাষা নিয়ে কোনও ভেদাভেদ। তবে অসমের গণদেবতা আপাতত কংগ্রেসের এই বার্তাকে গুরুত্ব দেননি। বিষয়টি নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া বলেন, ‘সনাতনই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ। সনাতনের মধ্যেই সেই শক্তি নিহিত রয়েছে, যে শক্তি দিয়ে সবাইকে একছাতার তলায় নিয়ে আসা সম্ভব। সত্যি বলতে কী, হিন্দুরাই একমাত্র ধর্মনিরপেক্ষ।’ কংগ্রেস প্রসঙ্গে দিলীপ শইকিয়া বলেন, ‘কংগ্রেস শুধুমাত্র মুখে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলে। কিন্তু বাস্তবে তাঁরা উলটো কাজ করে। কংগ্রেস মিঞা মুসলিমদের সব সুবিধা প্রদান করে। কংগ্রেসে থাকা হিন্দুরা দশ শতাংশ সুবিধাও পান না।’

বিধানসভার পর এবার লোকসভার উপ নির্বাচনে চোখ বিজেপির

এবার বিধানসভা নির্বাচনে দিসপুর আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন নগাঁওয়ের সাংসদ প্রদ্যুৎ বরদলৈ। প্রার্থীতালিকা ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে নাটকীয়ভাবে কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন প্রদ্যুৎ বরদলৈ। বিধানসভা নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছেন তিনি। তাই নগাঁও লোকসভা আসনে শীঘ্রই অনুষ্ঠিত হবে উপ নির্বাচন। ইতিমধ্যে প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। এ ব্যাপারে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া জানান, ইতিমধ্যে রাজ্য বিজেপি নগাঁও লোকসভা আসনের জন্য একটি নির্বাচন কমিটি গঠন করেছে। ওই কমিটির আহ্বায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বিধায়ক পীযূষ হাজরিকাকে। এছাড়াও সহ আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বহু বিধায়ককে।

৯১.০১ পারসেন্ট স্ট্রাইক রেট

বিধানসভা নির্বাচনে অভূতপূর্ব জয় নিয়ে রাজ্য বিজেপি সভাপতি দিলীপ শইকিয়া বলেন, ‘আমরা ৯০টি আসনে লড়েছি। ৮২টি আসনে জয়ী হয়েছি। আমাদের স্ট্রাইক রেট ৯১.০১ পারসেন্ট। এই সাফল্য একদিনে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে গত দশবছরের নিরলস প্রচেষ্টা। সর্বানন্দ সোনোয়ালের নেতৃত্বে প্রথম পাঁচ বছর রাজ্যে যথেষ্ট কাজ হয়েছে। হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ক্ষমতায় আসার পর রাজ্যের উন্নয়নে আরও গতি আসে। মানুষ আমাদের উন্নয়নমূলক কাজকর্মে আকৃষ্ট হয়েছেন। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রীর বিকাশ এবং বিরাসত মন্ত্র অসমের খিলঞ্জিয়া মানুষকে অনুপ্রাণিত করেছে। সব শ্রেণির মানুষ আমাদের গ্রহণ করেছেন। শেষে আবার বলছি, এই সাফল্য একদিনে আসেনি। তিলে তিলে এসেছে।’ দিলীপ শইকিয়া NKTV-কে আরও জানান,বিজেপিকে এতটা পথ আসতে বহু ঘাত-প্রতিঘাতেরও সম্মুখিন হতে হয়েছে।

‘হিতাধিকারীরা ভোট দিয়েছে বিজেপিকে’

৮২টি আসনে জয়ের নেপথ্যে সরকারি প্রকল্পগুলিও অন্যতম কারক ছিল। দিলীপ শইকিয়া বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম সবাই সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন। অরুণোদয়, বাবু, নিযুতমইনা, মহিলা উদ্যোমিতা ইত্যাদি প্রকল্পের সুবিধা মানুষ পেয়েছেন। তাই তো তাঁরা বিজেপিকে দু-হাত ভরে ভোট দিয়েছেন। এছাড়া বিনে পয়সায় সরকারি চাকরি, সমাজকে এক ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে।’