দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: রাজ্যে ঘটেছে পালাবদল। প্রশাসনে এসেছে বিজেপি। স্বাভাবিকভাবেই মেট্রো বা রেলপথে আটকে থাকা জমি জটগুলির সমাধানের আশা করছেন রেল প্রশাসনের কর্তারা। তার অন্যতম ধাপ হিসাবে শুক্রবার কাজ শুরু হয়েছে চিংড়িঘাটায় আটকে থাকা মেট্রোর অংশে। জমি জটিলতা কেটে যাওয়ায় প্রায় ৩৬৬ মিটার অংশে এই গার্ডার বসানো হবে। কবি সুভাষ থেকে সেক্টর ৫ পর্যন্ত জুড়ে দিতে এই গার্ডার বসানোর কাজের জন্য বারবার রাজ্যের কাছে আবেদন করা হয়েছিল। মেট্রো সূত্রে খবর, মোট দু’দফায় এই কাজ সম্পন্ন হতে চলেছে।
সোমবার পর্যন্ত প্রথম দফায় উল্টোডাঙামুখী রাস্তার উপরে থাকা ৩১৭ ও ৩১৮ নম্বর পিলারের উপরে বসানো হবে গার্ডার। দ্বিতীয় দফায় ২২ মে থেকে ২৫ মে গড়িয়ামুখী রাস্তার উপরে থাকা ৩১৮ ও ৩১৯ নম্বর পিলারের উপরে বাকি অংশে গার্ডার বসিয়ে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
শুক্রবার রাত ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৬০ ঘন্টা প্রথম দফায় এবং দ্বিতীয় দফায় ২২ মে রাত ৮টা থেকে ২৫ মে সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রায় ৬০ ঘন্টা ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের উপরে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ করে এই কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কলকাতা পুলিশ প্রশাসনের তরফে।
এই জটিলতার জল কলকাতা হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়িয়েছিল। দুই জায়গাতেই তৎকালীন রাজ্য সরকার রীতিমতো তিরস্কৃত হয়। এরপরই কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির কড়া ধমকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার পতনের আগেই এই কাজ শুরু করার অনুমতি দেওয়া হয়।
কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ সূত্রে খবর, আগেই ৫৫০ মিটার রাস্তা বিকল্প হিসেবে বের করা হয়েছে। মেট্রোপলিটন থেকে মাঝেরপাড়া হয়ে এই রাস্তা চিংড়িঘাটার যে অংশে মেট্রোর কাজ বন্ধ ছিল, তার পরে গিয়ে মিশেছে। উল্টোডাঙামুখী গাড়িগুলিকে ওই দিক থেকে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। নিউটাউনমুখী গাড়িগুলি চিংড়িঘাটা উড়ালপুল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। আবার দক্ষিণমুখী গাড়িগুলিকে চিংড়িঘাটা উড়ালপুল দিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। তবে সে ক্ষেত্রে চিংড়িঘাটা উড়ালপুলের উপরে গার্ড রেল বসিয়ে গাড়ি নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
এই কাজের সময় নির্দিষ্ট দিনগুলিতে মালবাহী গাড়ি ওই রাস্তায় চলাচল সম্পন্ন নিষিদ্ধ করেছে কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের তরফে।