অবহেলার শিকার বীর লাচিতের জন্মস্থান!

15

দেবজিৎ শৰ্মা, নাজিরা: অসমিয়া শৌর্যের প্রতীক, ঐতিহাসিক শরাইঘাট যুদ্ধের সেনাপতি বীর লাচিত বরফুকনের জন্মস্থান অবহেলায় পড়ে আছে। উপযুক্ত সংরক্ষণের অভাবে বীর লাচিতের জন্মস্থানের চরম দুর্দশা। শিবসাগরের হাঁহচরা অঞ্চলের শুকতিবাড়ি এখন আবৰ্জনায় ভরে উঠেছে। লাচিতের জন্মস্থানের পরিবেশ দুৰ্গন্ধে ভরে উঠেছে।

ছবি: নিজস্ব

প্ৰধানমন্ত্ৰী নরেন্দ্ৰ মোদী অসমিয়া শৌৰ্যের প্ৰতীক, আহোম বীর লাচিত বরফুকনের ১২৫ ফুট উঁচু সুবিশাল মূৰ্তি উন্মোচন করেছিলেন। সেই লাচিতের প্রতি অবহেলা প্রকট হয়ে উঠেছে। অসমের সুরক্ষায় জীবন পণ করা এই মহান বীরের জন্মস্থান অসংরক্ষিত এবং অবহেলিত অবস্থায় পড়ে আছে। উল্লেখ্য, স্বৰ্গদেউ প্ৰতাপ সিংহ তাঁর রাজত্বকালে এক সুপরিকল্পিত গ্ৰামীণ অৰ্থনীতির বুনিয়াদ গড়ে তুলে অসমকে স্বনিৰ্ভর করে তুলেছিলেন। স্বর্গদেউ প্রতাপ সিংহের প্ৰণালীবদ্ধ শাসন পরিচালনায় অসমের সমাজ-অর্থনীতির বিকাশ ঘটেছিল। এই কাজে স্বৰ্গদেউ প্রতাপ সিংহের বিশ্বস্ত উপদেষ্টা ছিলেন আহোম অৰ্থনীতিবিদ মোমাই তামুলি বরবরুয়া। এই মোমাই তামুলির বাসস্থান ছিল শিবসাগর জেলার হাঁহচরা অঞ্চলে আজকের শুকতি আলিতে।
শুকতি নামে পরিচিত মোমাই তামুলি বরবরুয়ার নামেই দিখৌ নদীর পারের এই জায়গাটি শুকতি আলি নামে পরিচিত হয়। এই মোমাই তামুলি বরবরুয়ার ছেলে লাচিত বরফুকন৷

ইতিহাসবিদ ডঃ লীলা গগৈ, তুলন গোহাঁই, হেম বুরাগোহাঁই, রত্নেশ্বর বুরাগোহাঁই, দিলীপ বুরাগোহাঁই সহ অন্যান্য ইতিহাসবিদও বলেছেন শুকতি আলিই বীর লাচিতের জন্মস্থান। এই ঐতিহাসিক তথ্যটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পরেও আজ পৰ্যন্ত বীর লাচিতের জন্মস্থানের উপযুক্ত সংরক্ষণের ব্যবস্থা না হওয়া দুঃখজনক। হাঁহচরার বিশিষ্ট ইতিহাসবিদ প্ৰয়াত তুলন গোহাঁই গত শতাব্দীর সত্তরের দশকের প্রথম দিকে লাচিতের জন্মস্থান সংরক্ষণের দাবি তুলেছেন। পরে ১৯৮৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে লাচিত বরফুকনের জন্মস্থান সংরক্ষণ সমিতি গঠিত হয়েছিল৷ প্ৰয়াত মুখ্যমন্ত্ৰী হিতেশ্বর শইকিয়ার সঙ্গে বেশ কয়েকজন জনপ্ৰতিনিধিকে লাচিতের জন্মস্থানটি উপযুক্তভাবে সংরক্ষণের অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু কেউ কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করেননি।


সম্প্রতি ২০২২ সালে অসম সরকারের উদ্যোগে লাচিত বরফুকনের ৪০০ বছরের জন্মজয়ন্তীর অংশ হিসেবে শিবসাগর জেলা প্ৰশাসন এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় শুকতিবাড়িতে লাচিতের জন্মজয়ন্তী উদযাপন করা হয়েছিল৷ বালি দিয়ে লাচিতের মূৰ্তি নিৰ্মাণ করে জানানো হয় শ্ৰদ্ধা। ঐতিহাসিক শরাইঘাট যুদ্ধের মহানায়কের গুণগান করা হয়৷ সেটা যেন ছিল এক তাৎক্ষণিক আবেগ মাত্র৷ কারণ, লাচিতের বালিমূৰ্তি নিৰ্মাণ করা স্থান বৰ্তমানে যে অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে তা বীর লাচিতের প্রতি অবমাননাকর। সেবার জন্মজয়ন্তী উদযাপনের সঙ্গে জন্মস্থানের উন্নয়নে শিবসাগর জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে দেওয়া ৫ লক্ষ টাকারও সদ্ব্যবহার হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয় বাসিন্দাদের।


হোলোঙাপারে যে বীরের মূৰ্তির আবরণ উন্মোচন হলো প্ৰধানমন্ত্ৰীর হাতে সেই বীরের জন্মস্থান অবহেলায় ম্লান। এখন বীর লাচিতের জন্মস্থানে শুরু হয়েছে অবৈধ খনন। এস্কেভেটর দিয়ে চলছে লাচিতের ভিটেমাটির নির্মম খনন। বীর লাচিত বরফুকনের জন্মস্থান শুকতি আলি এবং শুকতিবাড়ির উপযুক্ত সংরক্ষণের জন্য সরকার এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে আহ্বান জানিয়েছেন এলাকার বাসিন্দারা৷