ফলতায় পুনর্নির্বাচন, ২৮৫ কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ, ২৪ মে গণনা

3

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: ফলতায় আজ নতুন করে নির্বাচন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের ভোট বাতিল করেছিল নির্বাচন কমিশন। ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ। ভোটগণনা হবে আগামী ২৪ মে।

গত ২৯ এপ্রিল ছিল রাজ্যের শেষ দফা বিধানসভা ভোট। ফলতায় কিছু অভিযোগ উঠেছিল। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের বেশ কিছু বুথে অনিয়ম হয়।‌ ইভিএমে আতর, কালি, টেপ লাগানোর মতো অভিযোগ জমা পড়ে নির্বাচন কমিশনের কাছে। ফলতায় ছুটে যান ভোটের বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত। পুনর্নির্বাচনের দাবি তোলা হয়। সুব্রত গুপ্ত সমস্ত কিছু বিবেচনা করে রিপোর্ট পাঠায় নির্বাচন কমিশনে। সিদ্ধান্ত হয় পুনর্নির্বাচন হবে ফলতায়। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও জানিয়েছিলেন, ফলতায় পুনর্নির্বাচনের প্রয়োজন রয়েছে। ‌ নির্বাচন কমিশন পুনর্নির্বাচনেরই সিদ্ধান্ত নেয়। ৪মে ২৯৩ আসনের ফলঘোষণা হলেও বাদ ছিল ফলতার আসনটি।

দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভার পুনর্নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে ভোটের ময়দান ছাড়েন তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। মঙ্গলবার ভোটপ্রচারের শেষ দিনে জাহাঙ্গির ঘোষণা করেন, তিনি এই ভোটে লড়ছেন না।

যদিও এই সিদ্ধান্তের নেপথ্যে দলের কোনও ভূমিকা নেই বলেই জানিয়ে দেওয়া হয় তৃণমূল কংগ্রেসের সোশ্যাল হ্যান্ডলে। তৃণমূলের তরফে এক্সে পোস্ট করে জানানো হয়, ‘এই সিদ্ধান্ত জাহাঙ্গিরের ব্যক্তিগত, দলের নয়।’

এরমধ্যে জল গড়িয়ে যায় অনেক দূর। ফলতার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পণ্ডার সমর্থনে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পদযাত্রা করেন। ঠিক তখনই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পছন্দের প্রার্থী জাহাঙ্গির খান প্রার্থী পথ প্রত্যাহার করেন। সাংবাদিক বৈঠকে প্রার্থী পদ প্রত্যাহারের পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ফলতার প্রতি স্পেশাল প্যাকেজের কথা উল্লেখ করেন জাহাঙ্গির। আর তাই তিনি প্রার্থী পথ প্রত্যাহার করছেন বলে জানান।

বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে ফলতার ২৮৫ ভোটকেন্দ্রে শুরু হয় ভোটগ্রহণ। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ। ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রের স্থানীয়দের দাবি, বিগত বেশ কয়েকটি নির্বাচনে তাঁরা ভোট দিতে পারেননি, এবার তারা নিশ্চিন্তে ভোট দেবেন। অভিযোগের তীর, জাহাঙ্গির খান এবং তাঁর দলবলের দিকে।‌

নির্বাচনে না-থাকলেও ইভিএম-এ জাহাঙ্গিরের নাম এবং তৃণমূলের প্রতীক থাকবে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সকাল ন’টা পর্যন্ত ভোটদানের হার ২০.৪৭ শতাংশ।