সিবিএসই ‘নৃশংস’, ভাষা বিতর্কে তোপ অভিভাবকদের

37

নিউজ ডেস্ক: সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন বা সিবিএসইর তুঘলকিপনা নাকি অন্য কিছু? ৬ সপ্তাহের ব্যবধানে দুরকমের নির্দেশের জেরে এখন অভিভাবকদের রোষের মুখে তারা। বিশেষ করে পড়ুয়াদের মায়েরা সিবিএসইর বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন।

ঘটনাটা ঠিক কী? ৯ এপ্রিল ২০২৬ সিবিএসই জানিয়েছিল ২০২৯-৩০ অ্যাকাডেমিক সেশন পর্যন্ত ক্লাস নাইনের পড়ুয়াদের জন্য থ্রি-ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি প্রযোজ্য হবে না। এবছর ক্লাস সিক্স থেকে এই ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি কার্যকর করা হয়। স্বাভাবিকভাবেই ছেলেমেয়েদের নিয়ে সদা চিন্তিত বাবা-মায়েরা নির্দেশ পেয়ে ময়দানে নেমে পড়েন। বিশেষ করে মায়েরা। অনেক চিন্তাভাবনা করে কী কী ভাষা নিয়ে সন্তানরা পড়াশোনা করবে, তার ভবিষ্যৎ কী, যাবতীয় বিচার-বিশ্লেষণ করে সাবজেক্ট পছন্দ করা হয়েছে।

কিন্তু মাত্র ৬ সপ্তাহ বাদে হঠাৎ ফের এক নির্দেশিকা। ১৫ মে ২০২৬ সিবিএসইর তরফে পুরোপুরি একশো আশি ডিগ্রি ঘুরে গিয়ে জানানো হল থ্রি-ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি ক্লাস নাইন থেকেই লাগু হবে এবং পয়লা জুলাই থেকে তা কার্যকর হবে। পড়ুয়া, অভিভাবক এবং স্কুলের শিক্ষিকা সকলের মধ্যেই সিবিএসইর এই নির্দেশিকা রীতিমতো আতঙ্ক তৈরি করেছে।

স্বাভাবিকভাবেই প্রযুক্তির সঙ্গে সামাজিক মাধ্যমের দেওয়ালে এই আতঙ্ক তীব্রভাবে আছড়ে পড়েছে। দুয়োকটা উদাহরণ দিলেই আপনাদের কাছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। যেমন, নয়ডার একটি স্কুলে অভিভাবকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে এক অভিভাবক লিখেছেন, ‘সিবিএসইর কাছে আমাদের বাচ্চারা পরীক্ষাগারের ইঁদুর।’ আরেক অভিভাবক লিখেছেন, ‘এই নির্দেশিকার মানে ক্লাস সিক্স থেকে যেসব বাচ্চা একটি করে বিদেশি ভাষা শিখছে তারা সবাই বোকা। রাতারাতি সিবিএসই সিদ্ধান্ত নিলে গোটা সিস্টেমটাই পরিবর্তন হবে এবং বাচ্চা ও তাঁদের অভিভাবকদের ৩ বছরের পরিশ্রম ও টাকা নর্দমার জলে চলে গেল।’ বর্তমানে কোনও বিতর্ক মানেই তাতে রাজনীতির খোঁচা থাকবে না তা তো হয় না! এক অভিভাবকের মন্তব্য, ‘সিবিএসইর প্রত্যাশা বাচ্চারা এখন হিন্দি ও সংস্কৃত শিখবে’। আরও একজন লিখেছেন, ‘সিবিএসই ২-৩ বছর পরপর কিছু না কিছু পরিবর্তন করে, পরিবর্তন ভালো কিন্তু তা কখনই বাচ্চাদের ওপর বোঝা বাড়িয়ে দেওয়ার বিনিময়ে নয়।’ সিবিএসইর এই নয়া নির্দেশিকা স্কুলগুলিই-বা কীভাবে দ্রুততার সঙ্গে চালু করবে তা নিয়েও অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

কী এই থ্রি-ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসি?
ক্লাস নাইনের নতুন ল্যাঙ্গুয়েজ পলিসিতে বলা হচ্ছে প্রতিটি পড়ুয়াকে বাধ্যতামূলকভাবে দুটি ভারতীয় ভাষা সহ তিনটি ভাষা পড়তে হবে। এর মধ্যে একটি ইংরেজি এবং অন্যটি হিন্দি অথবা ভারতীয় অন্য একটি ভাষা। তৃতীয় ভাষাটি হবে একটি বিদেশি ভাষা। কেউ ফ্রেঞ্চ, কেউ জার্মান বা কেউ স্প্যানিশ নিয়ে পড়তে পারবে।

সিবিএসইর নিয়ম অনুসারে ক্লাস টেনে তৃতীয় ভাষা নিয়ে কোনও পরীক্ষা হয় না। এই ভাষায় স্কুলই পরীক্ষা নেয় এবং প্রাপ্ত নম্বর বা গ্রেড সিবিএসইর শংসাপত্রে প্রতিফলিত হয়।

বিতর্ককে ধামাচাপা দিয়ে সিবিএসইর সাফাই, জাতীয় শিক্ষা নীতি, ২০২০ এবং স্কুল শিক্ষার জাতীয় পাঠ্যক্রম রূপরেখা, ২০২৩ অনুসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সিবিএসইর এই সাফাইয়ের পর ফের একবার নিজেদের ক্ষোভ উগড়ে দিয়েছেন অভিভাবকরা। প্রায় একস্বরেই তাঁদের প্রতিক্রিয়া, ‘ক্লাস টেনের পরীক্ষা পড়ুয়াদের সামনে প্রথম বড় পরীক্ষা। ক্লাস নাইন থেকে তারা প্রস্তুতি শুরু করে দেয়। বাচ্চারা তো বটেই ভীষণ চাপের মধ্যে থাকেন অভিভাবকরা। এভাবে ল্যাঙ্গুয়েজ চেঞ্জ করার মানে নিশ্চিতভাবে কোনও বাবু তা চাইছেন।’ সিবিএসইর এই সিদ্ধান্তকে ‘নৃশংসতা’ বলেই ব্যাখ্যা করেছেন তাঁরা।