পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা:আজ বারুইপুরে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহত যুবক ইন্দ্রজিত মন্ডলের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইন্দ্রজিৎ মন্ডলের দাদাকে চাকরি ও তাঁর বাবা-মায়ের হাতে ২৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন ।
আজ বারুইপুর গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করেন, তিনি বলেন “গণপিটুনিতে যাঁর মৃত্যু হয়েছে, সেটাকে গণপিটুনি বলব না। পুরোপুরি তাঁর নাম পরিচয় দেখে খুন করা হয়েছে।” মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগ, “এর পিছনে ভোটে রিজেক্টেড যাঁরা হয়েছেন, তাঁদের বড় উস্কানি রয়েছে। র্যাডিকাল মৌলবাদী গ্রুপও থাকতে পারে, আমি উড়িয়ে দিচ্ছি না।”
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, “এই যুবকের প্রত্যেকটা খুনি আর নির্যাতিতার অত্যাচারীরা কাস্টডি ট্রায়াল হবে। চূড়ান্ত চরম শাস্তি পাবে। এই যুবকের যে খুনি, তাদের সঙ্গে প্যায়ার মহব্বত হতে পারে না। যদি কোনও নিরীহ লোক বিক্ষোভ দেখিয়েছেন, সেটাকে সমর্থন করি। কারণ ক্ষোভ দেখানোর গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। কিন্তু কোনও নিরীহ লোক যাতে পুলিশি জেরার মুখ না পড়েন, সেটা পুলিশকর্তাকে নিশ্চিত করতে বলেছি। যদি নিরীহ কেউ ফেঁসে থাকেন, সেটা আইজি নিজে দেখে নেবেন।”
নিহতের বড় দাদাকে ডিজিপি সিভিক ভলান্টিয়ারের চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। পাশাপাশি যে বাড়িটা ভাঙা হয়েছিল, সেটা জেলাশাসকের উদ্যোগে ২ দিনের মধ্যে মেরামত করা করা হয়েছে। নিহতের বাবা-মায়ের বার্ধক্য ভাতা, অন্নপূর্ণা দুটোই চালু করে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আজ মুখ্যমন্ত্রী এককালীন ২৫ লক্ষ টাকার চেক পরিবারের হাতে তুলে দিয়েছেন।
তবে গণপিটুনির ঘটনায় যাঁদেরকে ফুটেজে দেখা গিয়েছে, যাঁরা চিহ্নিত, তাঁদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না বলে স্পষ্ট করে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের মধ্যে একজনকে বকখালি, আরেকজনকে দিঘা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “৩৫ বছরের অবিবাহিত যুবককে হাত পা বেঁধে যেভাবে নৃশংসভাবে পিটিয়ে মারা হয়েছে, কাউকে ছাড়া হবে না।”
আজ বারুইপুরের সূর্যপুরে নতুন পুলিশ ফাঁড়ির উদ্বোধন করেন তিনি। গত মঙ্গলবার নির্যাতিতার পরিবার তাঁর সঙ্গে দেখা করে এই পুলিশ ফাঁড়ির আবেদন জানিয়েছিল। চার দিনের মধ্যেই তা প্রস্তুত করা হয়েছে।