অনুপ্রবেশকারীদের জামাই আদর নয়: শুভেন্দু

29

নিউজ ডেস্ক: রাজ্যের হোল্ডিং সেন্টারেও অনুপ্রবেশকারীদের রাখতে না রাজ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ইতিমধ্যেই বেশকিছু জেলায় যত সন্দেহভাজন বাংলাদেশিদের পাকড়াও করে ক্যাম্পে আটক করে রাখা হয়েছে তাদের কেন খরচ করে খাওয়াবে সরকার? প্রশ্ন তুলছেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর মতে অনুপ্রবেশকারীদের কোনও রকম ‘জামাই আদর নয়’।


মুখ্যমন্ত্রীর সাফ বার্তা, ‘বাংলাদেশ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের সরাসরি বিএসএফ ধরবে। বাংলাদেশে পাঠাবে। জেলে (ক্যাম্পে) রেখে চাল-ডাল তেল খরচ করব কেন?’ তাঁর খোঁচা, ‘ভোট ব্যাঙ্কের স্বার্থে (রাজ্যে) আগের সরকার কেন্দ্রীয় আইন ব্যবহার করেনি। আমরা আইনের ব্যবহার করব। অর্থাৎ, যাদের সন্দেহভাজন বাংলাদেশী কিংবা রোহিঙ্গা বলে পাকড়াও করা হয়েছে তাদের খুব তাড়াতাড়িই সীমান্ত পার করে বাংলাদেশে পাঠানো হবে, তা একপ্রকার স্থির।


এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে মানুষ জমা হচ্ছেন আটকের ভয়ে। ঠিক এসআইআর-এর সময় যে ছবি দেখা গিয়েছিল। ফের সেই ধরনেরই ছবি দেখা গেল উত্তর ২৪ পরগনার ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত এলাকায়।

উত্তর চব্বিশ পরগনার স্বরূপনগরের হাকিমপুর সীমান্তে একটি ছবিকে ঘিরে শোরগোল তৈরি হয়েছে। শাসক দল বিজেপির দাবি, পালে পালে লোক হাকিমপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে ‘পালাচ্ছেন’। সেই ছবি বিজেপি তাদের সমাজ মাধ্যমের দেওয়ালেও সাঁটিয়েছে। যদিও এই ছবি সত্যতা যাচাই করেনি এনকেটিভি বাংলা। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কিশোর কিশোরী থেকে মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে তারা সীমান্তের ওপারে যাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন।

ইতিমধ্যেই মালদহে তৈরি হয়েছে ‘হোল্ডিং সেন্টার’। এই সেন্টারগুলি কীরকম হবে তার একটি নির্দেশিকাও দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার। মূলত আটকদের ‘মানবাধিকার’ যাতে কোনওভাবেই ক্ষুণ্ণ না হয় সেদিকে নজর দিতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সেন্টারের চার পাশে দশ ফুট উঁচু পাঁচিলের ওপর কাঁটা তারের ঘেরাটোপ থাকবে। পুরুষ ও মহিলাদের আলাদা করে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। সেন্টারে পর্যাপ্ত ফাঁকা জায়গা রাখত হবে, এলপিজি সংযোগ এবং ওষুধের দোকান জাতীয় ব্যবস্থা রাখতে হবে। একই পরিবারকে একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা করতে হবে। প্রতিটি আবাসিকের বায়োমেট্রিকের ব্যবস্থা করতে হবে। সেন্টারে আটকদের আনার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা বাধ্যতামূলক এবং অসুস্থদের যথাযথ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে।

বাংলাদেশি সন্দেহে আটকদের নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছে। দেশ থেকে ‘বিতাড়ণের’ আগে আটকদের অবশ্যই নাগরিকত্ব প্রমাণের সুযোগের জন্য ন্যূনতম ৩০ দিন সময় দিতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তাঁদের দেওয়া সমস্ত কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ না হলে দেশ থেকে বের করে দেওয়ার পদক্ষেপ করবে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন।

তবে অনেকেই এতে প্রমাদ গুণছেন। খাতায় কলমে অনেক কিছু বলা হলেও কী আদতে তা হবে, এই প্রশ্নে সন্দিহান অনেকেই। প্রাক্তন বিএসএফ কর্তাদের অনেকেই প্রকাশ্যে কিছু বলতে না চাইলে, তাঁদের অনেকেই একমত বহু মানুষই হেনস্থার শিকার হবেন।

বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘বিতাড়ণ’ নিয়ে ভোটের বাজারে বিতর্ক কম হয়নি। অসমের মতো বাংলায় কোনও ‘ডেটনশন’ ক্যাম্প হবে না বলে প্রতিটি সভাতেই আশ্বস্ত করতে দেখা গিয়েছে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। কিন্তু ভোট বাজারে এবারে তিনি কল্কে পাননি। বাংলাদেশি ‘ডিটেক্ট, ডিটেইন, ডিপোর্ট…’ প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাওয়ার পর প্রকাশ্যে তাঁর পদক্ষেপও এখনও সেভাবে কিছু নজরে পড়েনি। শুধু তাই নয়, ভোট-পূর্বে অন্য রাজনৈতিক দলগুলিও ‘বাংলাদেশি বিতাড়ণ’ নিয়ে বিজেপির বিরুদ্ধেই কথা বলেছিল। তাঁরাও এখনও সেভাবে কোনও পদক্ষেপ করেছে বলে প্রকাশ্যে দেখা যাচ্ছে না।

কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ী মূলত বাংলাদেশি মুসলিমরাই ‘বিতাড়ণের’ তালিকায় থাকবেন তা একপ্রকাশ নিশ্চিত। মুসলিম ভোটকে হাতিয়ার করে এবারের ‘অন্যরকম’ ভোটে মুর্শিদাবাদ থেকে নতুন দল গড়েই দুটি আসন থেকে জয়ী হয়েছেন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সুপ্রিমো হুমায়ুন কবীর। সংবাদ সংস্থা এএনআই-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, ‘বাংলাদেশি’ নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তে সহমত তিনি। তাঁর বক্তব্য, ‘অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই বক্তব্যকে স্বাগত জানাচ্ছি। যাঁরা বাইরে থেকে এদেশে এসেছেন তাঁদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা নিয়ে তাঁর কোনও সমস্যা নেই।’