১২.৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের ছায়াপথ আবিষ্কার! বিশ্বকে চমকে দিলেন মণিপুরের রোনাল্ডো লাইশ্রম
নিউজ ডেস্ক: ১২.৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের এক অতিকায় ছায়াপথ। আবিষ্কার করলেন মণিপুরের তরুণ জ্যোতিঃপদার্থবিদ রোনাল্ডো লাইশ্রম। আদি ব্রহ্মাণ্ডের এই অতিকায় ছায়াপথের নাম রাখা হলো মণিপুরের বিখ্যাত হ্রদ লোকতাকের নামে। জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ এবং সুবারু টেলিস্কোপের সহায়তায় আদি ব্রহ্মাণ্ডের এই ছায়াপথের আবিষ্কার করেছেন ২৯ বছর বয়সী জ্যোতিঃপদার্থবিদ ও তাঁর সহযোগীরা। সদ্য আবিষ্কৃত ছায়াপথের তাঁরা নাম দিয়েছেন ‘লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার’। এই লোকতাক প্রোটোক্লাস্টার এমন এক সময়ের যখন ব্রহ্মাণ্ডের বয়স ছিল মাত্র ১.২ বিলিয়ন বছর।

ব্রহ্মাণ্ডের আদি অবস্থার এই ছায়াপথের অবস্থান অকল্পনীয় দূরত্বে। সেই ছায়াপথ শক্তিশালী টেলিস্কোপের মাধ্যমে নজরে পড়ল ১২.৬ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরের পৃথিবীতে। আলোর গতিবেগ সেকেন্ডে প্রায় ১৮৬ মাইল। অর্থাৎ এক বছরে ৫.৮৮ ট্রিলিয়ন মাইল। এই গতিবেগে আলো ছুটলে ১২.৬ বিলিয়ন বছরে যে অকল্পনীয় দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে সেই দূরত্বে সদ্য আবিষ্কৃত ছায়াপথের অবস্থান।
মানুষের কল্পনাকেও হারা মানানো সেই অকল্পনীয় দূরের ছায়াপথ আবিষ্কার করেছেন মণিপুরের তরুণ বিজ্ঞানী রোনাল্ডো লাইশ্রম ও তাঁর সহযোগীরা। রোনাল্ডো লাইশ্রম মণিপুরের থাউবল জেলার খাঙ্গাবোক এলাকার সন্তান। বর্তমানে তিনি জাপানের ন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজার্ভেটরিতে পোস্ট ডক্টোরাল গবেষক হিসেবে কাজ করছেন। আন্তর্জাতিক এক গবেষক দলের সঙ্গে এই অতিকায় আদিম ছায়াপথ আবিষ্কার করে বিশ্ব জুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন লাইশ্রম।
রোনাল্ডো ও তাঁর দলের এই আবিষ্কারের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে বিশ্বের অন্যতম নামকরা বিজ্ঞান জার্নাল দ্য অ্যাস্ট্রোফিজিক্যাল জার্নাল লেটার্স-এ। প্রোটোক্লাস্টারকে একগুচ্ছ ছায়াপথের প্রাথমিক পর্যায় বলে গণ্য করা হয়ে থাকে। বিজ্ঞানীরা প্রায়ই এরকম প্রোটোক্লাস্টারকে ‘সিটি অব গ্যালাক্সি’ বা ছায়াপথের শহর বলে বর্ণনা করে থাকেন। সদ্য জন্মানো ব্রহ্মাণ্ডের মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবে এরা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে।
এই বিস্ময়কর আবিষ্কার সম্ভব হয়েছে হাওয়াইয়ের সুবারু টেলিস্কোপ এবং নাসার জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ কাজে লাগিয়ে। এই গবেষণার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রোনাল্ডো বলেন, ব্রহ্মাণ্ডের ইতিহাসের আদিপর্বে ছায়াপথের আচরণ এবং বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জোগাবে এই গবেষণা। রোনাল্ডো বলেন, ‘এধরনের গবেষণা গুরুত্বপূর্ণ একারণেই যে, এতে ব্রহ্মাণ্ডে কী ঘটে চলেছে এবং ভিড়ের পরিবেশে ছায়াপথ কীরকম আচরণ করে সেটা বুঝতে সুবিধে হবে’।
জ্যোতিঃপদার্থ বিজ্ঞানে রোনাল্ডোর আগ্রহ ছেলেবেলা থেকেই। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই তিনি সারা ভারত ধূলকেতু সন্ধান অভিযানকালে একটি প্রাথমিক মেইন বেল্ট ধূমকেতু আবিষ্কার করেছিলেন। এই সাফল্যের জন্য ২০১৫ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি ডঃ এপিজে আব্দুল কালাম তাঁকে সংবর্ধনা জানিয়েছিলেন। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে সাফল্যের সঙ্গে সঙ্গে মণিপুর অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল সোসাইটির প্রতিষ্ঠাতা সমন্বয়কারীও তিনি। তাঁর সাফল্যে গর্বিত মণিপুরের সঙ্গে সঙ্গে সমগ্র উত্তরপূর্বাঞ্চল।