গুয়াহাটিতে পুলিশের গুণ্ডাগিরি! পিস্তল উঁচিয়ে প্রাণে মারার হুমকি

22

সুকল্যাণ রাজখোয়া, গুয়াহাটি: ফের পুলিশের বিরুদ্ধে গুণ্ডাগিরির অভিযোগ। বিনা কারণে এক রেস্তোরাঁ মালিককে মারধরের অভিযোগ সাতগাঁও পুলিশের বিরুদ্ধে। এমনকি কথা জানাজানি হলে এনকাউন্টারের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ আক্রান্তের।

রাত তখন প্রায় ২টো। গুয়াহাটির পাঞ্জাবাড়ির মিড নাইট ক্যাফের মালিক আমন হাজরিকা রেস্তোরাঁ বন্ধ করে বাড়ি ফিরছিলেন। বাড়ির মালিককে গেটে তালা দিতে বলে তাঁরা কথা বলছিলেন। সেই সময় ক্যাফের সামনে এসে দাঁড়ায় পুলিশ প্যাট্রোলিঙের একটি গাড়ি। গাড়ি থেকে নামেন এক পুলিশ আধিকারিক। নাম জয়ন্ত রাজখোয়া। অভিযোগ, গাড়ি থেকে নেমে কোন কথা না বলেই রেস্তোরাঁর ছবি তুলতে শুরু করেন। আমন কারণ জানতে চাইলে, পকেট থেকে পিস্তল বের করে খুলি উড়িয়ে দেওয়ার ধমকি দেন ওই পুলিশ আধিকারিক। শুধু তাই নয়, বাড়ির মালিক ও তাঁর হবু স্ত্রীকেও অকথ্য গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ। জানা গিয়েছে, জয়ন্ত রাজখোয়া সাতগাঁও থানায় কর্মরত।

এরপর আবারও ছবি তোলার কারণ জানতে চাইলে পুলিশ আধিকারিক জয়ন্ত রাজখোয়া এবার চড়াও হন আমনের উপর। বেশ কিছুক্ষণ ধরে আমনের উপর চলে ঘুষি, লাথি। তারপর আমনকে টেনে গাড়িতে তুলে থানায় নিয়ে যেতে চান জয়ন্ত রাজখোয়া। তাতেও আপত্তি জানায় আমন। তাঁর বক্তব্য, কোনো অপরাধ ছাড়াই তাঁকে পুলিশ এভাবে ধরে নিয়ে যেতে পারে না। আগে পুলিশ তাঁর অপরাধ কী, তা বলুক। কিন্তু পুলিশ আধকারিক জয়ন্ত রাজখোয়া তখন অগ্নিশর্মা। আবার মারধর। শেষে আমনকে নিয়ে যেতে না পেরে সেখান থেকে চলে যায় প্যাট্রোলিঙের গাড়ি।

কাতরাতে কাতরাতে আমন তখন বাড়িক মালিককে ফোন করে ডাকেন। তাঁরাই তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান চিকিৎসার জন্য। আমনের অভিযোগ, পুলিশ অধিকারিক জয়ন্ত রাজখোয়া মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। তাঁর ইউনিফর্মও ছিল ইতবিন্যস্ত। কথায় খানিকটা জড়তাও ছিল। সকালে জয়ন্ত রাজখোয়ার বিরুদ্ধে সাতগাঁও থানায় অভিযোগ দায়ের করেন আমন।

কিন্তু আমনের প্রশ্ন, রক্ষকই যদি এভাবে ভক্ষক হয়ে ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? নিজের উপর হওয়া অযাচিত আক্রমণের বিচার চান আমন হাজরিকা।