‘শান্তিনিকেতনে’ না পেয়ে পটুয়াপাড়ার বাড়িতে গিয়ে অভিষেককে নোটিশ সিআইডির

13

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে এবার নোটিশ ধরালো সিআইডি। সূত্রের খবর, সোমবার তাঁকে তলব করা হয়েছে। বিধানসভায় সই বিভ্রাটের তদন্ত করছে রাজ্য পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ। সেই মামলাতেই সম্ভবত অভিষেককে নোটিশ বলে খবর।

শনিবার দুপুরে হরিশ মুখার্জি রোডে ‘শান্তিনিকেতন’-এর সামনে হাজির হন সিআইডির আধিকারিকরা। সেখানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন না। বেলেঘাটায় কুণাল ঘোষের সঙ্গে তিনি ‘আক্রান্ত’ তৃণমূল কর্মীদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে ছিলেন। তারপর সিআইডি আধিকারিকদের তিনি জানান, কালীঘাট রোডে অর্থাৎ পটুয়াপাড়ার বাড়িতে তিনি রয়েছেন। সেখানেই হাজির হন সিআইডি আধিকারিকরা। অভিষেক নীচে নেমে দেখা করে সিআইডির থেকে নোটিস নেন।

এরপরই সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, ‘ওঁরা একটা নোটিস নিয়ে এসেছেন। আমি সেটা নিয়েছি। এখনও সেটা পড়িনি। আমার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলব। কোথাও সহযোগিতার জন্য ডাকলে যাব। আমার লোকানোর কিছু নেই। আমাকে এর আগেও যখন ইডি বা সিবিআই ডেকেছে, সহযোগিতা করেছি। লড়াইয়ের ময়দান থেকে সরব না।’

শান্তিনিকেতনে তিনি এখন আর থাকেন না বলেও জানান অভিষেক, ‘আমি শান্তিনিকেতনে থাকি না। আমার সঙ্গে দেখা করতে হলে এই বাড়িতে আসতে হবে। কেন সিআইডি এসেছে, সেটা তারাই জানে।’

এরপরই নাম না করে সরাসরি শুভেন্দু অধিকারীকে নিশানা করেন তিনি, ‘এগুলোর নেপথ্যে রাজনৈতিক স্বার্থ রয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। যারা এটা করে, তারা বেশি দিন ক্ষমতায় টেকে না। অশান্তি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে। এ ভাবে আমার মাথা নত করা যাবে না।’ এখানেই শেষ নয়, অভিষেক কড়া ভাষায় আক্রমণ করে বলেন, ‘অমিত শাহের পদলেহন করে বিজেপিতে যোগ দিয়ে মাথায় দু’তিনটি ইডি-সিবিআই কেস নিয়ে এখন অনেকে বড় বড় ভাষণ দিচ্ছেন। এর আগে কোনও মুখ্যমন্ত্রীকে দু’কান কাটার মতো হাত বাড়িয়ে টাকা নিতে দেখা যায়নি। এরা আবার আমাদের চোর বলে।’

অভিষেকের দুয়ারে সিআইডি

এই নোটিসের পিছনে যে রাজনীতি, তা বারবার স্পষ্ট করে বিজেকি নিশানা করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর বক্তব্য, ‘যা করার ইচ্ছে করুক। আগে ইডি সিবিআই ছিল, এখন রাজ্য ও কলকাতা পুলিশ, কেএমসি এসেছে। আগে ২-৩টে এজেন্সি ছিল, এখন ৫টা এজেন্সি। যদিও ওঁরা ভাবে মাথা ঝোঁকাবো, তাহলে সেটা হচ্ছে না। আমাকে ঝোঁকাতে ১০ বার ভাবতে হবে, ৭ বার জন্ম নিতে হবে। আমি গদ্দার নয়, ক্ষমতা থাকলে গ্রেফতার করে নিয়ে যাক।’ একই সঙ্গে অভিষেকের হুঁশিয়ারি, ‘সিআইডি কী? আমি এদের ইডি-সিবিআইয়ের সামনেও মাথা নত করিনি। এদের ১০ পুরুষও যদি চায় আমাকে সিআইডি দিয়ে, কেএমসি দিয়ে, ইডি দিয়ে, বাড়ি ভেঙে— যা ইচ্ছা করে নিক। আমি দমার ছেলে নই। দিল্লির কাছে মাথা নত করার আগে আমার মৃত্যু ভাল।’

কেএমসির নোটিস নিয়েও এদিন মউখ খুলেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। তাঁর মন্তব্য, ‘কোন অংশ অবৈধ, কলকাতা পুরসভাকে জিজ্ঞাসা করুন। একটা নোটিশ লাগিয়ে দিয়ে চলে গেল, এই অংশটা অবৈধ। মামলা করব, মামলা করার অধিকার আমার রয়েছে।’