এবার দলে কি মমতারই গুরুত্ব কমছে?

68,000

দেবারতি ঘোষ, কলকাতা: শনিবারের রেশ কাটেনি। বাইরের ধাক্কা এবার যেন তৃণমূলের অন্দরেও দেখা দিয়েছে। ভোটে ভরাডুবির একমাসের মধ্যেই কার্যত ছত্রভঙ্গ তৃণমূল কংগ্রেস! মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকে কালীঘাটের বৈঠকে ৮০ জন বিধায়কের মধ্যে এলেন মাত্র ২০ জন। খবর সূত্রের। ফলে বৈঠকই হল না রবিবার।

শনিবার সোনারপুরে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিকে ঘিরে হামলা ও বিক্ষোভের পরই রবিবারের বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর ছিল তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের। কিন্তু কালীঘাটে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে তৃণমূলের বিধায়কদের নিয়ে বৈঠক হওয়ার কথা থাকলেও তা বাতিল করতে হল। অনুপস্থিতির কারণ হিসেবে একাধিক বিধায়ক নাকি দলীয় নেতৃত্বকে জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের এলাকায় বিভিন্ন সাংগঠনিক ও জনসংযোগমূলক কাজে ব্যস্ত রয়েছেন।

কেউ কেউ স্থানীয় প্রশাসনিক বৈঠক, আবার কেউ দলীয় কর্মসূচির ব্যস্ততার কথাও উল্লেখ করেছেন বলে সূত্রের দাবি। যদিও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষের দাবি, ‘শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর আক্রমণের প্রতিবাদে বিভিন্ন এলাকায় বিধায়করা মিছিল সহ একাধিক প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেমে পড়ে। তাঁরা আসতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তাই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে।’ তবে রবিবারই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশ, ১ জুন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ মিছিল হবে। ২ জুন রানি রাসমনি রোডে অবস্থান বিক্ষোভ করবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। হকার উচ্ছেদ ও ভোট পরবর্তী হিংসা সহ একাধিক ইস্যুতে হবে এই অবস্থান।

সোনারপুরের ঘটনার পরপরই রবিবারে বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছিল। কারণ, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচিতে হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে দলের ভিতরে নিরাপত্তা, সাংগঠনিক প্রস্তুতি এবং রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে আলোচনা হতে পারে বলেই অনুমান করা হচ্ছিল। বিশেষ করে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে সাংগঠনিক বার্তা দেওয়ার ক্ষেত্রেও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হতে পারত। তবে শেষ পর্যন্ত পর্যাপ্ত সংখ্যক বিধায়ক উপস্থিত না হওয়ায় বৈঠক বাতিল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় দলের অন্দরে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।