স‌ই জাল কাণ্ডে রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টের দ্বারস্থ অভিষেক

35

পৃথা দাশগুপ্ত, কলকাতা: বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সিআইডি-র দেওয়া নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে মামলা দায়েরের অনুমতি চান তাঁর আইনজীবী।‌ সিআইডি-র নোটিস খারিজের আবেদনের পাশাপাশি সিআইডি যাতে তাঁকে গ্রেফতার না করে, সেই রক্ষাকবচের আবেদন জানিয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক। মামলা দায়েরের অনুমতি দেন বিচারপতি অপূর্ব সিনহা রায়। শুক্রবার মামলার শুনানি সম্ভাবনা।
উল্লেখ্য গতকালই কালীঘাটে বেআইনি বাড়ি নির্মাণ মামলায় স্থগিতাদেশ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাবা-মা। এবার বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে উচ্চন্যায়ালয়ের দ্বারস্থ হলেন অভিষেক।
বিধায়কদের সই জালকাণ্ডে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নোটিস পাঠিয়েছিল সিআইডি। ১জুন অভিষেককে ভবানীভবনে তলব করে সিআইডি। কিন্তু, ওইদিন শারীরিক অসুস্থতার কথা জানিয়ে হাজিরা দেননি তিনি।‌ সোমবার বিকেলেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালীঘাটের বাড়িতে দ্বিতীয়বার যান সিআইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। আধ ঘণ্টার বেশি অপেক্ষার পর অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ি থেকে একজন এসে সিআইডি-র নোটিস রিসিভ করেন। ৮ জুন ইভিষেককে হাজিরা দিতে বলা হয় ওই নোটিসে।‌

অভিযোগ বিধানসভার স্পিকারকে তৃণমূলের তরফ থেকে চিঠি দেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাতে বিরোধী দলনেতা হিসাবে শোভনদেব, ডেপুটি লিডার হিসাবে অসীমা পাত্র, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় এবং চিফ হুইপ হিসাবে ফিরহাদ হাকিমের নাম প্রস্তাব করা হয়েছিল। চিঠিতে ৭০ জন বিধায়কের নাম ছিল বলে সূত্রের খবর। অভিযোগ, ১৪ জন বিধায়কের স্বাক্ষর জাল করা হয়। ইতিমধ্যেই অভিযুক্ত বিধায়কদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে সিআইডি। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিক বৈঠক করে জানান, তৃণমূলেরই দুই বিধায়ক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা সই সংক্রান্ত অভিযোগ বিধানসভার অধ্যক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছেন। তাঁদের অভিযোগের ভিত্তিতে বিধানসভার তরফে পদক্ষেপ করা হয়েছে। শুভেন্দুর এই ঘোষণার পর দুই বিধায়ককেই বহিষ্কার করে তৃণমূল।

সেই অভিযোগকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই বুধবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি গ্রেফতারি এড়াতে রক্ষাকবচের আবেদনও জানিয়েছেন অভিষেকের আইনজীবী। শুক্রবার মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট কী নির্দেশ দেয়, সেটাই এখন দেখার।