বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের চিঠিতে সিলমোহর, বিরোধী দলের মর্যাদা দিল বিধানসভা

41

দেবারতি ঘোষ ,কলকাতা: রাজ্য রাজনীতিতে নজিরবিহীন ঘটনা। বিক্ষুব্ধ তৃণমূল বিধায়কদের জমা দেওয়া চিঠির ভিত্তিতেই বিধানসভায় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি মিলল। বুধবার বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্র বোস তৃণমূল কংগ্রেসের ৫৮ জন বিধায়ককে নিয়ে গঠিত পৃথক দলকে বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

বিধানসভা সূত্রে খবর, বেশ কয়েকদিন ধরেই তৃণমূলের অন্দরের টানাপোড়েনে একাংশ বিধায়ক নিজেদের পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে স্পিকারের কাছে চিঠি জমা দিয়েছিলেন। সেই চিঠি খতিয়ে দেখার পরই স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের বিরোধী দলের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।

এই সিদ্ধান্তের পরই বিধানসভার সচিব সৌমেন্দ্র নাথ দাস বিরোধী দলনেতার জন্য নির্ধারিত কক্ষের চাবি তুলে দেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়-এর হাতে। ফলে কার্যত বিরোধী দলনেতা হিসেবে তাঁর দায়িত্ব গ্রহণের পথও প্রশস্ত হল।

রাজনৈতিক মহলের মতে, পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা ইতিহাসে এই ঘটনা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ এতদিন যে দল সরকার পরিচালনা করছিল, সেই দলেরই একাংশ বিধায়ক নিজেদের পৃথক পরিচয়ে বিরোধী শিবিরের মর্যাদা পেলেন। এর ফলে বিধানসভার ভিতরে সরকার ও বিরোধী শিবিরের সমীকরণে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে।

সূত্রের দাবি, গত কয়েকদিন ধরে তৃণমূলের বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতা হিসেবে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় এবং সন্দীপন সাহা-ঘনিষ্ঠ বিধায়কদের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়েছে। বিধায়ক আবাস এবং কলকাতার বিভিন্ন জায়গায় সমর্থন সংগ্রহের কাজ চলছিল। শেষপর্যন্ত ৫৮ জন বিধায়কের সমর্থনপত্র স্পিকারের কাছে জমা পড়ার পরই বিষয়টি চূড়ান্ত রূপ পায়।

স্পিকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। শাসকদলের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না মিললেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী দিনে রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণে যথেষ্ট প্রভাব ফেলতে পারে। বিধানসভার বিভিন্ন স্থায়ী কমিটি, আলোচনার কাঠামো এবং বিরোধী দলের সাংবিধানিক অধিকার সম্পর্কেও নতুন করে সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এদিকে বিরোধী দলের মর্যাদা পাওয়ার পর ঋতব্রত শিবিরের বিধায়কদের মধ্যে উৎসাহ দেখা গিয়েছে। তাঁদের দাবি, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই তাঁরা সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন দেখিয়ে এই স্বীকৃতি অর্জন করেছেন। অন্যদিকে রাজনৈতিক মহল এখন নজর রাখছে, এই সিদ্ধান্তের পর তৃণমূল কংগ্রেসের মূল সংগঠন এবং সরকারের তরফে কী পদক্ষেপ করা হয় তার দিকে। রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে এই ঘটনাকে অনেকেই নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে দেখছেন।