নতুন প্রতীক দাবির পথে তৃণমূলের বিদ্রোহী গোষ্ঠী, আদালতের পথে ‘আসল’ বনাম ‘নকল’ তৃণমূল?

9

নিউজ ডেস্ক: সংসদে আসল তৃণমূল বনাম নতুন তৃণমূলের যুদ্ধ শুধু সময়ের অপেক্ষা। লোকসভা ও রাজ্যসভায় বাদল অধিবেশন হবে ২১ জুলাই থেকে। সেখানেই বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে সংসদে আসল তৃণমূল কারা তার পরীক্ষা। ইতিমধ্যেই লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লাকে চিঠি দিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পষ্ট জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেস একটি অখণ্ড দল। দলের নির্দেশ অমান্যকারী কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে যেন ‘আসল তৃণমূল’ হিসেবে আলাদা স্বীকৃতি বা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া না হয়। তিনি স্পিকারের কাছে সেই আবেদন জানিয়েছেন।

এদিকে, রবিবার রাতে আঞ্চলিক দল NCPI-এর সঙ্গে তৃণমূলের বিদ্রোহী ২০ সাংসদ এক হয়েছেন। ফলে এখনই ১৯৮৫ সালের ৫২তম সাংবিধানিক সংশোধনীর মাধ্যমে দলত্যাগ বিরোধী আইন (Anti-Defection Law)-এর আওতায় পড়ছেন না এই ২০ তৃণমূল সাংসদ। যদি সংসদে আসল তৃণমূল বলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে থাকা বাকি তৃণমূল সাংসদরাই আসল তৃণমূল বলে দাবি করে সেক্ষেত্রে বিদ্রোহী সাংসদরাও পাল্টা প্রস্তুত। রবিবার রাতেই তৃণমূলের বর্ষীয়ান বিক্ষুব্ধ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়ে রেখেছেন, অন্য পক্ষ যখন দাবি করবে তখন আদালত সিদ্ধান্ত নেবে কে আসল তৃণমূল। তবে এখনই নিজেরা কিছু করতে চাইছেন না বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা। শতাব্দী রায়, কাকলি ঘোষ দোস্তিদার সহ ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদ অপেক্ষা করছেন কখন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়রা সংসদে আসল তৃণমূল হিসেবে নিজেদের দাবি করবে। তরপরই সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রা স্পিকারের কাছে তাঁদের ২ তৃতীয়াংশ সংখ্যা গরিষ্ঠতার প্রমাণ দেবেন। এবং সুপ্রিম কোর্টেও যাবেন বলে জানিয়েছেন সুদীপ। নির্বাচন কমিশনে আলাদা প্রতীকের জন্যও আবেদন করবেন তৃণমূলের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সাংসদরা।

তৃণমূলের ২০ সাংসদের বিদ্রোহ এবং শিবির বদলের জেরে লোকসভায় ৩০০ পেরিয়ে যাচ্ছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। কিন্তু আগামী মাস থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল অধিবেশনে লোকসভার আসন পুনর্বিন্যাস বিল বা ‘এক দেশ, এক ভোট’ বিল পাশের জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে এখনও অনেকটা পথ পাড়ি দিতে হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএর বর্তমানে লোকসভায় ২৯২ জন সাংসদ রয়েছেন। তৃণমূলের ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ যোগ দেওয়ায় তা পৌঁছে যাচ্ছে ৩১২-য়। কিন্তু আসন বাড়িয়ে মহিলা সংরক্ষণ বিল চালু, ‘এক দেশ, এক ভোট’-এর মতো সংবিধান সংশোধন বিল পাশের জন্য দুই-তৃতীয়াংশ (৬৬.৬৭ শতাংশ) সংখ্যাগরিষ্ঠতা প্রয়োজন।

৫৪৩ সদস্যের লোকসভায় দুই তৃতীয়াংশ সংখ্যা সংখ্যা হলে ৩৬২ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন কেন্দ্রের। বর্তমানে বসিরহাট-সহ তিনটি আসন খালি থাকায় তা দাঁড়িয়েছে ৩৬১-তে। এই পরিস্থিতিতে সদ্য ‘ইন্ডিয়া’ জোট ত্যাগ করা ডিএমকে-র ২২ সাংসদকে পাশে পেলে ৩৩৪-এ দাঁড়াবে এনডিএ। কিন্তু তাতেও সমস্যা দূর হচ্ছে না মোদী-শাহের। এখনও ২৮ সাংসদের সমর্থন প্রয়োজন কেন্দ্রের।