বড়োসাড়ো জঙ্গি ছক বানচাল! অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে ভারত থেকে ৭ জঙ্গির যোগাযোগ পাকিস্তানে

32

নিউজ ডেস্ক: আবারও দিল্লিতে জঙ্গিদের বড়োসড়ো ছক বানচাল। পাকিস্তান মদতপুষ্ট ৭ জঙ্গিকে গ্রেফতার করল দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেল। পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ISI-এর সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই জঙ্গিদের। শাহজাদ ভাট্টি এবং তার সহযোগী আজমল গুজ্জর এই চক্রটি পরিচালনা করত বলে জানতে পেরেছে তদন্তকারীরা। পাকিস্তান থেকে দিল্লি-এনসিআর (NCR) এলাকায় অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, গোলাবারুদ এবং মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এই সাত জঙ্গি।


স্পেশাল সেলের ‘ইস্টার্ন রেঞ্জ’ এই চক্রের শিকড়ে পৌঁছতে অভিযান চালায়। অভিযানে দিল্লি, উত্তর প্রদেশ এবং পাঞ্জাব থেকে ৭ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করা হয়। এদের থেকে পুলিশ পাঁচটি অত্যাধুনিক আধা-স্বয়ংক্রিয় (সেমি-অটোমেটিক) পিস্তল, ৪১টি তাজা কার্তুজ, সাতটি মোবাইল ফোন (যাতে পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের সঙ্গে আপত্তিকর চ্যাট ও ভয়েস নোট ছিল) এবং সিন্ডিকেটের ব্যবহৃত একটি স্করপিও গাড়ি উদ্ধার করেছে তদন্তকারীরা।

দিল্লি পুলিশের তথ্য, এই চক্রটি পাঞ্জাব হয়ে পাকিস্তান থেকে হেরোইনসহ বিভিন্ন মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পাচার করত এবং পরে তা দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে দিত। তদন্তকারীদের মতে, শাহজাদ ভাট্টি ও আজমল গুজ্জরের নির্দেশে এই নেটওয়ার্কটি চলত। তাদের সঙ্গে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার যোগসূত্র রয়েছে বলে জানতে পেরেছে পুলিশ।

তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, সোশ্যাল মিডিয়া এবং এনক্রিপ্টেড যোগাযোগ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অভিযুক্তদের দলে ভেড়ানো ও উগ্রবাদী মতাদর্শে দীক্ষিত করা হয়েছিল। তাদের উপর মাদক ও অস্ত্র পাচার থেকে শুরু করে দিল্লি-এনসিআর-এর জনবহুল স্থান ও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুগুলোর দিকে নজরদারি চালানোর মতো দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ধৃতদের থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে, পরবর্তী অভিযানের পরিকল্পনার জন্য নির্দিষ্ট কিছু স্থানের ছবি ও ভিডিও পাকিস্তানে থাকা হ্যান্ডলারদের কাছে পাঠানো হতো। দিল্লি পুলিশের অভিযানে আগামী দিনে জঙ্গি কার্যকলাপ রোখা গেছে।


তদন্তে আরও জানা গেছে যে, এই চক্রের কয়েকজন সদস্য অবৈধভাবে টাকা ঋণ দেওয়ার কারবারে জড়িত ছিল এবং পাকিস্তানের অস্ত্র সরবরাহকারীদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করত। এছাড়া, ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে তারা ‘ডেড-ড্রপ’ ডেলিভারি পদ্ধতির (সরাসরি যোগাযোগ ছাড়াই নির্দিষ্ট স্থানে সামগ্রী রেখে আসা বা সংগ্রহ করা) মাধ্যমে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ করত।