চলন্ত এক্সপ্রেস ট্রেনেই প্রসব, এই পরিস্থিতিতে কী কী করল রেল?

40


নিউজ ডেস্ক: ছুটছে এক্সপ্রেস ট্রেন। হঠাৎ প্রসব বেদনা শুরু হল অন্তঃসত্ত্বার। মহিলার আত্মীয়রা তখন দুশ্চিন্তায়। কী করা যায়! ট্রেনের কোচ অ্যাটেন্ডেন্ট ও ট্রেন সফরে থাকা এক নার্সের সহযোগিতায় এক্সপ্রেসেই প্রসব হল মহিলার। চলন্ত ট্রেনেই জন্ম নিল এক ফুটফুটে সন্তান।

এই কাণ্ড ১৫৯১০ নম্বর আওধ আসাম এক্সপ্রেসে। রাজস্থানের লালগড়-আসামের ডিব্রুগড় পর্যন্ত চলে এই এক্সপ্রেস। নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে (এনএফআর)-এর তথ্য অনুযায়ী, গত ১৪ জুন এই ট্রেনটি যখন আসামের রঙ্গিয়া রেলওয়ে স্টেশনের কাছাকাছি পৌঁছয়, তখন ওই মহিলা যাত্রীর প্রসব বেদনা শুরু হয়। তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে রেল ট্রেন কর্তৃপক্ষ। যোগাযোগ করা হয় রঙ্গিয়া কন্ট্রোলে, কমার্শিয়াল এবং মেডিক্যাল বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়। রঙ্গিয়া ডিভিশনের ডিভিশনাল মেডিক্যাল অফিসার ডা. শরৎ চন্দ্রের নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিমকে প্রস্তুত করা হয়। ট্রেনটি পৌঁছানোর আগেই ওই চিকিৎসক দল রঙ্গিয়া স্টেশনে চলে যান। এরই মধ্যে, ট্রেনের কোচ অ্যাটেনডেন্ট এবং ট্রেনে ভ্রমণরত জোরহাট ক্রিশ্চিয়ান মিশন হাসপাতালের নার্স কৃষ্ণমা গোল্ডস্মিথ বেজবরুয়ার সহায়তায় চলন্ত ট্রেনেই নিরাপদে সন্তান প্রসব করেন মহিলা।

প্রসবের পর নবজাতক ও মায়ের সঙ্গে আত্মীয় এবং সহযোগীরা

ট্রেনটি রঙ্গিয়ায় পৌঁছানোর পর, সেখানে অপেক্ষায় থাকা মেডিক্যাল টিম মা ও নবজাতকের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা করেন। জরুরি চিকিৎসার জন্য রঙ্গিয়া রেলওয়ে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। যেহেতু নবজাতক সময়ের আগেই জন্ম নেয়, তাই পরবর্তী সময়ে বিশেষ চিকিৎসা ও পর্যবেক্ষণের জন্য রেলওয়ের অ্যাম্বুলেন্সে করে মা ও শিশুকে গুয়াহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মা ও শিশু সুস্থ ও স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছেন।

নর্থ-ইস্ট ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ে তাদের কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছে এবং এই জরুরি পরিস্থিতিতে নার্স কৃষ্ণমা গোল্ডস্মিথ বেজবরুয়াকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

সাধারণত চলন্ত ট্রেনে এই ধরনের পরিস্থিতিতে ট্রেনেই সফরকারী কোনো চিকিৎসক বা নার্স থাকলে রেলকর্মীরা তাঁদের ডেকে এনে প্রাথমিক চিকিৎসা ও প্রসবে সহায়তা করে থাকেন। পরবর্তী স্টেশনে চিকিৎসার জন্য জরুরি মেডিক্যাল দল (Medical Team) এবং অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখে রেল। ট্রেন পরবর্তী বড় স্টেশনে পৌঁছানোর সঙ্গে সঙ্গেই মা ও নবজাতককে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। তবে রেলের নিয়মানুযায়ী আজীবন ট্রেনের টিকিটে ছাড় পান না ওই সন্তান।