নিউজ ডেস্ক: নির্বাচনী রাজনীতিতে যোগ দিয়েই চমক প্রশান্ত কিশোরের। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সিনহার ছেড়ে যাওয়া কেন্দ্রে জনসুরাজ পার্টির প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত কিশোর হারালেন বিজেপির নীরজ কুমার সিনহাকে। বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে দাঁতিয়া কেন্দ্রে উপনির্বাচনে ছয় হাজারের বেশি ভোটে জিতেছেন কংগ্রেসের ঘনশ্যাম সিংহ। গুজরাটে অবশ্য বিজেপি নিজের আধিপত্য বজায় রেখেছে। সেখানকার মঞ্জলপুর উপনির্বাচনে মাত্র ৩৭ শতাংশ ভোট পড়লেও বিজেপির সত্যেন্দ্রভাই প্যাটেল জিতেছেন ৩০ হাজারের বেশি ভোটে।
বিহারের বাঁকিপুরকে বলা হয় বিজেপির দুর্ভেদ্য ঘাঁটি। বিধানসভার আসন পুনর্বিন্যাসের পর ২০১০ সালে পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রের একটি অংশ এবং আগের পাটনা মধ্য কেন্দ্রের একাংশ নিয়ে এই কেন্দ্রটি গঠন করা হয়। ২০১০ সাল থেকে পর পর চারবার এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন অধুনা বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন সিনহা। ২০২৫ সালে ৬২ শতাংশেরও বেশি ভোট পেয়ে ৫২ হাজার ভোটে জয়ী হয়েছিলেন তিনি। নীতিন রাজ্যসভার সদস্য হিসাবে নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনে পুনর্নির্বাচন হয়েছে। সেই নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোর প্রায় ১৯ হাজার ভোটে জয়ী হলেন।
গত বছর বিহারের বিধানসভা নির্বাচনে প্রশান্ত কিশোরের দল জন সুরাজ পার্টি অংশগ্রহণ করলেও প্রার্থী হননি প্রশান্ত। সেই ভোটে প্রশান্ত কিশোর বা পিকের দল কোনও আসনও পায়নি।
এই প্রথম বাঁকিপুর কেন্দ্র হাতছাড়া হল বিজেপির। বাঁকিপুর বিধানসভার একটি বড় অংশ আগে পাটনা পশ্চিম কেন্দ্রে ছিল। ১৯৯৫ থেকে ২০০৫ পর্যন্ত টানা চারবার এই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন নীতিনের বাবা নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহা।
বাঁকিপুরে প্রথমে অভিষেক কুমারকে প্রার্থী করেছিল বিজেপি। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে স্থানীয় বিজেপি কর্মীরা বিক্ষোভ শুরু করায় প্রার্থী বদল করেছিল বিজেপি। নতুন প্রার্থী হন নীরজ কুমার সিন্হা।
বৃহস্পতিবার উপনির্বাচন হয়েছে বিহারের বাঁকিপুর, মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এবং গুজরাটে মঞ্জলপুরে। দাতিয়ায় বিজেপি প্রার্থী আশুতোষ তিওয়ারির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখান মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্রের সঙ্গীরা।
গোটা দেশে ছাত্র বিক্ষোভের পর এই প্রথম নির্বাচন হল দেশে। সেখানে সরকারে থেকেও মধ্যপ্রদেশের দাতিয়া এবং বিহারের বাঁকিপুরে হার বিজেপিকে চিন্তায় রাখবে।