মণিপুরে ভুয়ো সংঘর্ষে মৃত্যুর অভিযোগ

15

নিউজ ডেক্স : মণিপুরে ভুয়ো সংঘর্ষে খুনের অভিযোগ কেন্দ্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার থেকে ২৪ ঘণ্টা মণিপুরের উখরুল, চূড়াচান্দপুর, কাংপোকপি, পশ্চিম ইম্ফলে ব্যাপক অভিযান চালায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। সেই অভিযানে এক কুকি গ্রামপ্রধানের ছেলের মৃত্যু ঘিরে উত্তাল মণিপুর।
নিরাপত্তা বাহিনীর দাবি, অসম রাইফেলস ও সেনাবাহিনীর সঙ্গে চূড়াচান্দপুর জেলার হেংলেপে জঙ্গিদের সংঘর্ষে মৃত্যু হয়েছে ওই গ্রামপ্রধানের ছেলের। তাঁর কাছ থেকে একটি একে-৪৭ রাইফেল, ম্যাগাজিন, কার্তুজ, বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।
যদিও হেংলেপের বিজেপি বিধায়ক লেটজামাং হাওকিপ বলেছেন, একজন সাধারণ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। মৃতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এটা সাজানো সংঘর্ষ। নিরাপত্তা বাহিনী বিনা প্ররোচনায় ড্রোন থেকে বোমা ফেলছিল। প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই দৌড়ে পালায়। জঙ্গলের কাছের একটি রাস্তায় গ্রামপ্রধানের ছেলেকে আটকে করে মেরে ফেলে বাহিনী। মৃত্যুর পর তাঁর গায়ে জংলা পোশাক পরিয়ে জঙ্গি সাজানোর চেষ্টা করেছে বাহিনী। গ্রামপ্রধানের ছেলে জঙ্গি নন, বরং ছিলেন স্বেচ্ছাসেবক। তাঁর কাছে ছিল চাল, ওষুধ ও কাটারি।
কুকি মহিলারা বিক্ষোভ করেছেন বাহিনীর বিরুদ্ধে। তাঁদের দাবি, জওয়ানদের বডি ক্যামেরা ফুটেজ, ফরেন্সিক পরীক্ষা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান খতিয়ে দেখা হোক।
১৫ জুন নাগারা হামলা চালিয়েছিল কুকি গ্রামে। আতঙ্কিত গ্রামবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার পরিবর্তে তাদের ওপরেই হামলা চালিয়েছে বাহিনী, দাবি কুকি মহিলাদের।
নাগাদের আক্রমণে আহত তিন কুকি তরুণকে চিকিৎসার জন্য আনা হয়েছিল ইম্ফলের রিমস হাসপাতালে। তিনজনের পরিচয় প্রকাশ্যে আসার পরই মেইতেইরা হাসপাতালে গিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন যে এখানে কুকিদের চিকিৎসা করা যাবে না। বিক্ষোভের জেরে আহত তিন কুকি যুবককে স্থানান্তরিত করা হয় চূড়াচান্দপুরের হাসপাতালে। আহতদের মধ্যে রয়েছেন মোহনবাগান যুব দলের ফুটবলার পাওগৌলাল চঙ্গলৌই।