পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা :পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দুদিনের সফরসূচী। রাজ্যে আসার আগেই পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মাহাত্ম্য বাংলায় বর্ণনা করেছেন মোদী। সোশ্যাল মিডিয়াতে বাংলায় পোস্ট করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহও।
পশ্চিমবঙ্গ দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন, “পশ্চিমবঙ্গ দিবস উপলক্ষে পশ্চিমবঙ্গে আমার বোন ও ভাইদের জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা। এই দিনটি এমন এক রাজ্যকে উদযাপন করে যা সাহিত্য, সঙ্গীত, শিল্প, আধ্যাত্মিকতা, বিজ্ঞান, বাণিজ্য ও ব্যবসা, সমাজ সংস্কার এবং আরও অনেক বৈচিত্র্যময় ক্ষেত্রে তার অবদানের মাধ্যমে ভারতের ইতিহাসকে রূপদান করেছে। বারবার, অগণিত ভাবে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের জাতীয় চেতনাকে সমৃদ্ধ করেছে।”
১৯৪৭ সালের ২০ জুন পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তাই এই রাজ্যের ইতিহাসে দিনটি পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হচ্ছে। এর নেপথ্যে শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আজকের অনুষ্ঠানে তাঁকে বিশেষ ভাবে স্মরণ করা হয়। রাজ্যে পালাবদলের পর এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে ঘটা করে পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালিত হচ্ছে।
আজ দুপুরে দমদম বিমানবন্দরে পৌঁছোন প্রধানমন্ত্রী। সেখান থেকে রওনা দেন হুগলির তারকেশ্বরের উদ্দেশে। বিকেল ৪টে ১৫ নাগাদ তারকেশ্বরের সভাস্থলে পৌঁছোয় প্রধানমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী আগেই পৌঁছে যান সেখানে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যপাল আরএন রবিও। তারকেশ্বরের সভামঞ্চে ডোকরার দুর্গামূর্তি দিয়ে প্রধানমন্ত্রী কে স্বাগত জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তারকনাথের একটি ছবিও উপহার দেন তিনি। মোদীর হাতে তুলে দেন রসগোল্লা এবং জলভরা সন্দেশও।
প্রথমবার ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এর মূল অনুষ্ঠানে এসে প্রধানমন্ত্রী শুধু উন্নয়নের বার্তাই দেননি, রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদলকে সামনে রেখে সরাসরি জনতার কাছেও জানতে চেয়েছেন “পরিবর্তন ভালো লাগছে তো ?”
তিনি বলেন, “আপনাদের এক-একটি ভোট বাংলার ভবিষ্যৎ বদলে দিয়েছে। বাংলায় এখন তাজা হাওয়া বইছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ আজ স্বাধীন। পুরনো গৌরব ফিরে আসছে। বাংলা আর থামবে না, বাংলা নতুন ইতিহাস তৈরি করবে ।”
তৃণমূল সরকারের দুর্নীতির প্রসঙ্গও টেনেছেন তিনি। তিনি বলেন, “বহু বছর ধরে বাংলা উন্নয়নের সুযোগ হারিয়েছে । কংগ্রেস, সিপিএম এবং তৃণমূল- প্রত্যেকেই বাংলাকে পিছনের দিকে টেনে নিয়ে গেছে। কিন্তু ডবল ইঞ্জিন সরকার সুপারফাস্ট গতিতে উন্নয়নের কাজ শুরু করেছে ।”
সীমান্ত নিরাপত্তা থেকে নারী সুরক্ষা- বিভিন্ন ক্ষেত্রে নতুন সরকারের উদ্যোগের কথা তুলে ধরেছেন তিনি। পাশাপাশি তিনি জানান, আজ থেকেই রাজ্যে চালু হয়েছে ‘প্রধানমন্ত্রী ফসল বিমা যোজনা’ । পাশাপাশি মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে বাস পরিষেবা, চিংড়িঘাটা মেট্রোর সম্প্রসারণ-সহ একাধিক প্রকল্পের কথাও উল্লেখ করেছেন।
অনুষ্ঠানের সূচনাতেই ‘পশ্চিমবঙ্গ দিবস’ এর ঐতিহাসিক তাৎপর্য তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী । তাঁর দাবি, “ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের অবদানকে আড়াল করতেই অতীতে কোনও সরকার পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালন করেনি । এই প্রথম রাষ্ট্রবাদী সরকারের উদ্যোগে প্রধানমন্ত্রীকে সঙ্গে নিয়ে সেই ইতিহাসকে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে ।”
মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, আগামী ২৩ জুন ‘আত্মবলিদান দিবস’ এবং ৬ জুলাই শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে তাঁর পৈতৃক ভিটেতে স্মৃতিসৌধ নির্মাণ এবং কলকাতায় ১২৫ ফুট উচ্চতার মূর্তি স্থাপন করা হবে।
তারকেশ্বর থেকে কপ্টারে প্রধানমন্ত্রী চলে আসেন রেস কোর্সে। সেখান থেকে সড়ক পথে প্রধানমন্ত্রী চলে যান লোক ভবনে।
রবিবার রেড রোডে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রী। সকাল ৬টা থেকে ৭:৩০ পর্যন্ত থাকবেন যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে। তারপরে রেড রোড থেকে লোক ভবন হয়ে গার্ডেনরিচ যাবেন তিনি। ৩টি যুদ্ধজাহাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনটি জাহাজের নাম আইএনএস ডুনাগিরি, আইএনএস সংশোধক,আইএনএস আগ্রে। গার্ডেনরিচের অনুষ্ঠান শেষ করে মোদী ফিরবেন রেসকোর্সে। সেখান থেকে সরাসরি হেলিকপ্টারে কলকাতা বিমানবন্দরে ফিরবেন তিনি। কলকাতা বিমানবন্দর থেকে বিশেষ বিমানে দিল্লি ফেরার কথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির।