পুর নিগমের অপরিণত সিদ্ধান্তঃ চরম অব্যবস্থার সাক্ষী নীলাচল

560

নিউজ ডেস্কঃ অম্বুবাচির দ্বিতীয়দিনেই চরম অব্যবস্থার সাক্ষী থাকল নীলাচল। গুয়াহাটি পুর নিগমের ব্যর্থতার জন্য যারপরনাই যন্ত্রণা ভোগ করতে হয়েছে দর্শনার্থীদের। পুর নিগমের অপরিণত সিদ্ধান্ত, দ্বিতীয় কোনও পরিকল্পনা না থাকায় রীতিমতো হয়রানির মুখোমুখি হতে হয়েছে দর্শনার্থীদের।

কামাখ্যা গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত ৬ ঘন্টা

পরিস্থিতি এমন ছিল যে, কামাখ্যা গেট থেকে মন্দির পর্যন্ত পৌঁছাতে ৫-৬ ঘন্টা সময় লেগেছে দর্শনার্থীদের
দেড় থেকে দুঘন্টার মধ্যে যেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়, সেই রাস্তা পেরোতে সময় লেগেছে ৫ থেকে ৬ ঘন্টা।
প্রশ্নটা হল কেন? দর্শনার্থীর সংখ্যা বেশি ছিল বলে? এবার দর্শনার্থীর সংখ্যা ৮ লক্ষ ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে প্রথম থেকেই বলে আসছে মন্দির কমিটি।

প্রতিদিন খুব কমেও ২ লক্ষ দর্শনার্থীর মন্দির পরিদর্শন

মানে প্রতিদিন গড়ে খুব কমেও ২ লক্ষ দর্শনার্থী মন্দির পরিদর্শনে যাবেন এটা আগে থেকেই জানা ছিল মন্দির কমিটি, গুয়াহাটি পুর নিগম তথা প্রশাসনের। সে অনুযায়ী সব কিছু পরিকল্পনাও করা হয়েছিল। তাহলে দর্শনার্থীর সংখ্যার অজুহাতটা খাটছে না কোনওভাবেই। নীলাচলে মঙ্গলবার তাহলে ঠিক কী হয়েছিল?
গেট দিয়ে তখন অজস্র মানুষ ঢোকতে শুরু করেছেন। এরইমধ্যে ঢোকে গেল পুর নিগমের আবর্জনা বহন করা একাধিক গাড়ি, সঙ্গে ছিল মেডিক্যাল টিমের ছোট-মাঝারি বাহনও। লাইনে ছিল দুয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সও। কন্ট্রোল রুম থেকে ওই গাড়িগুলোকে গেটের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হলেও মাঝপথে গিয়ে দাঁড়িয়ে পড়ে পুর নিগমের গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্স পুরো রাস্তা অবরোধ করে দর্শনার্থীদের আটকে দেয় পুর নিগমের বিশাল-বিশাল গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সগুলো। কারণ জানতে চাইলে চালকরা জানায় উপর থেকে অনুমতি মিলছে না মন্দিরে ঢোকার, তাই দাঁড়িয়ে রয়েছে তাঁরা। কতক্ষণ এভাবে দাঁড়িয়ে থাকবে এনিয়েও কোনও স্পষ্ট ধারণা নেই তাঁদের। বেশ কয়েকঘন্টা এভাবেই দাঁড়িয়ে রইল পুর নিগমের বিশাল গাড়ি, অ্যাম্বুলেন্সগুলো।

জরুরিকালীন সেবার জন্য কপ্টার!

কাঠফাটা রোদ্দুর মাথায় নিয়ে দাঁড়িয়ে রইলেন দর্শনার্থীরাও। কারও সঙ্গে ছিল অবোঝ শিশু। কেউ আবার তাঁর অশীতিপর বাবা-মাকে কামাখ্যা দর্শনে নিয়ে গেছেন। কেউ বা এই অবস্থায়ই বসে রয়েছেন মাঝপথে। প্রশ্নটা হল, পুরসভার গাড়িগুলোকে গেটের ভেতরে ঢোকার অনুমতি দিয়ে মাঝপথে আটকে রাখা হল কেন? কারণ,
পুর নিগম, স্থানীয় প্রশাসন ও মন্দির কমিটির মধ্যে যোগসূত্রের অভাব। প্ল্যান এ ফেল করলে দ্বিতীয় কোনও পরিকল্পনা নিয়ে আসা উচিত ছিল পুর নিগমের। কিন্তু তাঁরা সেটা করেনি। যার ফল ভোগ করতে হয়েছে লক্ষ-লক্ষ দর্শনার্থীদের। জরুরিকালীন সেবার জন্য কপ্টার ব্যবহার করা যেত এমনকী রাতে ফিরে আসার সময় সরকারের বহু বিজ্ঞাপিত গ্রিন বাসগুলোরও দেখা মেলেনি গুয়াহাটির রাস্তায়।

ব্যহত ছিল গ্রিন বাস পরিষেবাও

মেঘা একটা আয়োজন, লক্ষ-লক্ষ মানুষ শহরের বুকে। গ্রিন বাসগুলোকে পুরো রাত চালানো যেতেই পারত। কিন্তু প্রশাসন, পুর নিগম যেন কোনওভাবেই কোনও শিক্ষা নেবে না। অম্বুবাচিতে এবার ভিআইপিদের জন্য বিশেষ কোনও সুবিধে থাকবে না। জোর গলায় জানিয়েছিল প্রশাসন। ভিআইপিরা বিশেষ সুবিধে পাবেন না, তার মানেই তো ভিআইপিদের জন্য যাতে সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতে কোনও অসুবিধে না হয়।
সেই দর্শনার্থীদেরই যদি নরকযন্ত্রণা ভোগ করতে হয়, তাহলে VIP, VVIP-র বিজ্ঞাপন করে কী লাভ?
তবে এখনও সময় আছে। পরিণত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখাক পুর নিগম। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আধুনিক, বিজ্ঞানসম্মত সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হোক।

অম্বুবাচি জাতীয় উৎসবে পরিণত

অম্বুবাচি যেহেতু একটা জাতীয় উৎসবে পরিণত হয়েছে, তাই সেই মর্যাদা পাক মেগা এই মিলনমেলা। অম্বুবাচিতে জরুরিকালীন সেবায় কপ্টার ব্যবহার করা হোক। অম্বুবাচির এই সপ্তাহে গোটা গুয়াহাটি জুড়ে সারা রাত চলুক গ্রিন বাস। কামাখ্যার সঙ্গে পুরো রাত জেগে থাকুক গুয়াহাটি। জেগে থাকুক মোক্ষ লাভের এই মিলনমেলা।