মহারাজা পৃথু সেতুর গুণমান নিয়ে প্রশ্ন

43

নিউজ ডেস্ক: দিনকয়েক আগে গুয়াহাটির সবচেয়ে দীর্ঘ ফ্লাইওভারে দুর্ঘটনায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর সেতুর গুণমান নিয়েই প্রশ্ন উঠেছে। ২৯ জুন গুয়াহাটির চাঁদমারিতে মহারাজা পৃথু ফ্লাইওভারে গভীর রাতে সড়ক দুর্ঘটনায় পরিমল মেধি নামে এক স্কুটার আরোহী ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। এই দুর্ঘটনায় সুশীল নেওগ নামের আরেক ব্যক্তি গুরুতর আহত হন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেতুর নিরাপত্তা ও নির্মাণ নিয়ে ব্যাপক জনরোষ সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারিভাবে বলা হয়েছে,একটি মোটরসাইকেল ও স্কুটারের মধ্যে মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃষ্টি হলে ফ্লাইওভারের পিচ অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়, যা প্রায়ই দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এ ছাড়া ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ ও চাঁদমারি রোটারি নিয়েও অনেক প্রশ্ন উঠেছে।
মহারাজা পৃথু ফ্লাইওভার অসমের দীর্ঘতম এবং বৃহত্তম উড়াল সেতুর মধ্যে অন্যতম। গুয়াহাটির নুনমাটি থেকে দীঘলিপুখুরিকে এই ফ্লাইওভার যুক্ত করেছে।চার লেনের এই সেতুর দৈর্ঘ্য প্রায় ৪.৫ কিলোমিটার এবং এটি তৈরিতে আনুমানিক ৮৫৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে।


এই ফ্লাইওভার দিয়ে নিত্য চলাচলকারীদের অভিযোগ, সামান্য বৃষ্টি হলেই সেতুর রাস্তা অত্যন্ত পিচ্ছিল হয়ে যায়। গতিশীল দুচাকার গাড়ির পক্ষে পিচ্ছিলতার কারণে নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রায় অসম্ভব। সেতুতে যান চলাচল শুরু হওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই বিভিন্ন জায়গায় এর সংস্কার করা হয়েছিল। নির্বাচনের আগে খুব দ্রুততার সঙ্গে এই সেতু চালু করা হয়। তাড়াতাড়ি চালু করতে গিয়ে গুণমানের সঙ্গে আপস করা হয়েছে, মত এক নিত্য চলাচলকারীর।
এক সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের মতে, অ্যাসফল্টে বেশি মাত্রায় বিটুমিন মেশানো হলে বৃষ্টিতে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যায়। এই সেতুর রাস্তা দেখে সেটাই করা হয়েছে মনে হচ্ছে।
চান্দমারি থানার ট্রাফিক শাখার এক আধিকারিক জানিয়েছেন, বৃষ্টিতে অন্তত ৫-৬টি গাড়ি হড়কে পড়ে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত কেউ বড় আঘাত পায়নি।
বিষয়টি নিয়ে সুর চড়িয়েছে বিরোধী দল কংগ্রেস। অসম কংগ্রেসের মহিলা সভাপতি মীরা বরঠাকুর বলেছেন, এই সেতু তৈরি করতে ৮৫৩ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। তার বিস্তারিত হিসেব প্রকাশ করা জরুরি। একটু বৃষ্টি হলেই সেতুর রাস্তা বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে মহারাজা পৃথু ফ্লাইওভার। ভোটের জন্য সঠিকভাবে নির্মাণের আগেই সেতু চালু করা হয়েছে। তার ফল ভুগছে নিত্যযাত্রীরা।