পেট্রলে ইথানল নিয়ে সরব বিরোধীরা

26

নিউজ ডেস্ক: ইথানল মেশানো পেট্রল নিয়ে সরব বিরোধীরা। দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবিষয়ে দেশের ২৯ গাড়ি নির্মাণ সংস্থাকে চিঠি দিয়েছেন। ইথানল মিশ্রিত ই২০ পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির ক্ষতি হলে কে ক্ষতিপূরণ দেবে? প্রশ্ন আপ নেতা অরবিন্দ কেজরিওয়ালের। সব গাড়ি নির্মাণকারী সংস্থার কাছে কেজরিওয়ালের দাবি, ই২০ পেট্রল ব্যবহারে গাড়ির কোনও ক্ষতি হবে না একথা স্পষ্টভাবে বলুক তারা।
পেট্রলে ২০ শতাংশ ইথানল মেশানোর নীতি সংক্রান্ত মামলায় সুপ্রিম কোর্ট বিশেষ হস্তক্ষেপ করেনি। শীর্ষ আদালত আপাতত স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। অর্থাৎ, ২০২৫-২৬ সালের জন্য ইথানল সরবরাহ ও বরাদ্দের যে ব্যবস্থা ইতিমধ্যে কার্যকর হয়েছে, তাতে এখনই কোনও পরিবর্তন করা যাবে না। কেন্দ্রের যুক্তি ছিল, এখন বরাদ্দে পরিবর্তন আনলে সারা দেশের ই২০ নীতি এবং জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রের পক্ষে জানানো হয়েছে, ই২০ কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি ফলাফল এখনও মূল্যায়নের পর্যায়ে রয়েছে। ই২০ নীতি বহাল রয়েছে এবং তা থেকে সরে আসার কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। আপাতত ইথানল সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনও পরিবর্তন হবে না।
ইথানল মিশ্রিত পেট্রল চালুর সময় কেন্দ্র দাবি করেছিল যে এর ফলে বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরতা কমবে, পরিবেশ দূষণ হ্রাস পাবে এবং কৃষকরা লাভবান হবেন। কিন্তু সাধারণ মানুষের অভিযোগ, পেট্রলে ২০% ইথানল মেশানো হলেও জ্বালানির দাম কমেনি।
সরকার বলছে, ই২০ নীতির মূল উদ্দেশ্য পেট্রলের দাম কমানো নয়। বরং তেল আমদানি কমানো, বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়, কৃষকদের জন্য নতুন বাজার তৈরি করা এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া।
পেট্রোলিয়াম মন্ত্রী হরদীপ সিং পুরী বলেছেন, উপযুক্ত যানবাহনে এই জ্বালানি ব্যবহার করলে ইঞ্জিনের ক্ষতি হয় এমন কোনও প্রমাণ নেই। একইসঙ্গে তিনি জানান, গাড়ি নির্মাতা ও যানবাহন পরিষেবা প্রদানকারীরাও ই২০ জ্বালানির ব্যবহার নিয়ে কোনও সমস্যার কথা জানাননি। পুরী বলেছেন, দেশে ২০ কোটি দুচাকা এবং ২০ লক্ষ চার চাকার যানবাহন চলে আর তারা প্রত্যেকেই এই জ্বালানি ব্যবহার করে।
হরদীপ পুরী জানান, ভারতে ই২০ নতুন কোনও জ্বালানি নয়। সাড়ে তিন বছর ধরে দেশে ই১৫ ব্যবহার হচ্ছে। আর ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে ই২০ চালু হয়েছে। অর্থাৎ ই২০ ব্যবহারের এক বছরেরও বেশি সময় কেটে গিয়েছে। এখন যদি কেউ মনে করেন খুব তাড়াতাড়ি ই২৫ চালু হতে চলেছে, তাহলে সেটা ঠিক নয়। আমরা এখনও পরীক্ষা চালাচ্ছি। সেই পরীক্ষাগুলি শেষ হতে সময় লাগবে।
সম্প্রতি কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণমন্ত্রী নীতীন গডকড়ি ই২০ পেট্রোলের কারণে গাড়ির ক্ষতি হচ্ছে, এমন অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ব্রাজিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং থাইল্যান্ডের মতো দেশ বহু বছর ধরে ইথানল-মিশ্রিত জ্বালানি ব্যবহার করছে এবং সেখানে গাড়ির কোনও বড় ধরনের সমস্যা দেখা দেয়নি।

বিহারের এক ইউটিউবার ও রাজনৈতিক কর্মী মনীশ কাশ্যপ একটি ভিডিওতে দাবি করেন যে, ই২০ পেট্রল ব্যবহার করার কারণে তাঁর গাড়িটি বিকল হয়ে গিয়েছে এবং ইঞ্জিন মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে টয়োটার পক্ষ থেকে নির্দিষ্ট কারও নাম না করে স্পষ্ট জানানো হয়েছে যে, ইঞ্জিনের সমস্যার সঙ্গে ই২০ জ্বালানির কোনও যোগসূত্র নেই। গাড়ির ইঞ্জিনে যদি কোনও ত্রুটি এসে থাকে, তবে তা ভেজাল বা দূষিত জ্বালানির জন্য হতে পারে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রলের জন্য নয়।
দুচাকার গাড়ির ক্ষেত্রে দেশের শীর্ষস্থানীয় সংস্থা হিরো মোটোকর্পের চিফ বিজনেস অফিসার আশুতোষ বর্মা জানিয়েছেন, তাঁদের সার্ভিস সেন্টারে কোটি কোটি বাইক ও স্কুটারের ডেটা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেই তথ্য অনুযায়ী, ই২০ পেট্রোল চালু হওয়ার পর থেকে ইঞ্জিনের ক্ষতি বা বিকল হওয়ার মতো ঘটনার কোনও বৃদ্ধি নজরে আসেনি।

২০১৩-১৪ সালে ভারতে পেট্রলে মাত্র ১.৫ শতাংশ ইথানল মেশানো হত, যা আজ পৌঁছেছে ২০ শতাংশে। এই লক্ষ্যমাত্রা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের কথা থাকলেও ভারত তা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যেই হাসিল করে নিয়েছে।