নিউজ ডেস্ক: অসমের ছয়গাঁওয়ে ফের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে রাস্তায় নামল বাসিন্দারা। প্রস্তাবিত ৫৫ মেগাওয়াটের কুলসি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন। ১৪৫৫ কোটি টাকার প্রকল্প প্রত্যাহার না করলে টানা আন্দোলনের হুমকি দিয়েছে বিক্ষোভকারীরা।
শনিবার ছয়গাঁওয়ে জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল কুলসি নদীবাঁধ বিরোধী সংগ্রাম মঞ্চ। তাদের সঙ্গে ছিল স্থানীয় বাসিন্দা সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কর্মীরা। প্রকল্পের কাজ শুরু হলে অনেকেই জমি হারাবেন, ঠিকঠাক পুনর্বাসন হবে না এবং এর ফলে পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হবে, দাবি কুলসি নদীবাঁধ বিরোধী সংগ্রাম মঞ্চের।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্প হওয়ার কথা অসম-মেঘালয় সীমান্তের উকিয়ামে। ছয়গাঁওয়ের একাংশ বাসিন্দাদের মতে, এর ফলে নদীর বাস্তুতন্ত্র নষ্ট হবে এবং যার প্রভাব পড়বে ছয়গাঁও এলাকায়।
গত সপ্তাহে ব্রহ্মপুত্র বোর্ড আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত প্রকল্প রিপোর্ট এবং অন্যান্য আনুষঙ্গিক নথি জমা দিয়েছে আসাম পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের কাছে। এরপরই আন্দোলন আরও দানা বেঁধেছে। চুক্তিপত্রে স্বাক্ষর করেছেন ব্রহ্মপুত্র বোর্ডের জেনারেল ম্যানেজার অভয়কুমার এবং আসাম পাওয়ার জেনারেশন কর্পোরেশন লিমিটেডের চিফ জেনারেল ম্যানেজার সৌরভ শইকিয়া।
এই প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৪৫৫ কোটি টাকা খরচ হবে বলে অনুমান। ৬০ ফুট উঁচু বাঁধ তৈরি হবে। আন্দোলনকারীদের মতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে অন্তত ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে প্রভাব পড়বে। ছয়গাঁও থেকে উকিয়াম হয়ে চামারিয়া পর্যন্ত প্রচুর মানুষকে ভিটেমাটি হারাতে হবে।
কেন্দ্রীয় সরকারের জলশক্তি মন্ত্রকের অধীন ব্রহ্মপুত্র বোর্ড প্রথম রিপোর্ট পেশ করে আর্জি জানিয়েছে, দ্রুত এই প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ শুরু করার জন্য।
আন্দোলনকারীরা রাভা-হাসং স্বশাসিত পরিষদ এবং স্থানীয় বিধায়কের নীরবতা নিয়ে প্রশন তুলেছে। তাঁদের দাবি, এত আন্দোলন-বিক্ষোভের পরও স্বশাসিত পরিষদ এবং স্থানীয় বিধায়ক মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছেন।
মেঘালয় এবং অসমের বাসিন্দাদের ধারাবাহিক প্রতিবাদের পরও সরকার এই প্রকল্প করতে বদ্ধপরিকর। কুলসি নদীবাঁধ বিরোধী সংগ্রাম মঞ্চের সদস্যদের দাবি, সরকার এই প্রকল্প প্রত্যাহার না করলে তীব্র আন্দোলন হবে।