অসমে প্রতিদিন আত্মঘাতীর সংখ্যা ১০!

40

নিউজ ডেস্ক: ২০২১ থেকে এখন পর্যন্ত অসমে আত্মঘাতী ২৪০০ অপ্রাপ্তবয়স্ক। এর মধ্যে ১৪০০ কিশোরী। শুধু ২০২৫ সালে প্রতিদিন গড়ে দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক আত্মঘাতী হয়েছে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে কিশোরীদের আত্মহত্যা প্রবণতা বেশি বলে দেখা যাচ্ছে রিপোর্টে। শুধু অপ্রাপ্তবয়স্ক নয়, অসমে প্রতিদিন দশটি করে আত্মঘাতীর ঘটনা দেখা গেছে অসমের সরকারি তথ্যে। ২০২১ সালে আত্মঘাতী ৩২৬২, ২০২২ সালে ৩৩২০, ২০২৩ সালে ৩০৫১, ২০২৪ সালে ৩২০৩ এবং ২০২৫ সালে আত্মঘাতীর সংখ্যা ২৩৫৫। আত্মহত্যার ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ গলায় ফাঁস দেওয়ার ঘটনা দেখা গেছে।
অপ্রাপ্তবয়স্কদের আত্মঘাতীর কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের মত, বিদ্যায়তনিক চাপ, পারিবারিক সংঘাত, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার জন্য অসমে আত্মহত্যার ঘটনা বাড়ছে। সমাজকর্মীদের মতে, কিশোরদের তুলনায় কিশোরীদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। এর পেছনে পড়াশোনার চাপ, সম্পর্কের অবনতি, সামাজিক বিচ্ছিন্নতার কারণ ছাড়াও যুক্ত হয়েছে মারাত্মক ডিজিটাল বা অনলাইন গেমের নেশা। ইদানীং শহুরে অপ্রাপ্তবয়স্কদের আত্মহত্যা আরও বৃদ্ধি করেছে ডিপ্রেশন বা বিষণ্ণতা।
মনস্তত্ত্ববিদদের মতে, আত্মহত্যা আটকাতে পরিবার, প্রতিবেশী এবং স্কুলের দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি। অভিভাবকদের নিয়মিত কাউন্সেলিং দরকার। কিশোর-কিশোরীদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ, জটিল চিন্তা করা, সমস্যা সমাধান করা শেখাতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্য উন্নত করতে খোলামেলা কথাবার্তা খুব জরুরি, মত মনস্তত্ত্ববিদদের।
এটা খুবই উদ্বেগের বিষয় যে ইদানীং দেখা যাচ্ছে ১৩-১৪ বছরের ছেলেমেয়ের কোনও কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিচ্ছে। এই বয়সি ছেলেমেয়েরা উদ্বেগে থাকলে পরিবার, প্রতিবেশী এবং স্কুলের কথা বলা উচিত। আত্মহত্যা এখন আর ব্যক্তির সমস্যা নয়, বরং সার্বিকভাবে সমাজের সমস্যা। কারণ এসব ছেলেমেয়েই দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের বাঁচিয়ে রাখা খুব জরুরি বলেছেন, এক সমাজকর্মী।