পৃথা দাশগুপ্ত,কলকাতা: চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশযাত্রায় অনুমতি আগেই খারিজ করে দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট । আদালতের নির্দেশ ছিল, এসএসকেএম-এ চিকিৎসা করাতে হবে সাংসদকে। হাইকোর্টের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করেই সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, মামলা কলকাতা হাইকোর্টেই ফেরত পাঠাল শীর্ষ আদালত। এই বিষয়ে কলকাতা হাইকোর্টকে এক সপ্তাহের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট।
চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু, বিদেশ যাওয়ার আবেদন খারিজ করে দেয় কলকাতা হাইকোর্ট। ২০ জুলাই মামলার শুনানিতে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীকে জানান, ” চোখের চিকিৎসা কলকাতার হাসপাতালে করা হয়নি। আদালত আপনাকে তখন বিদেশ যেতে দিতে পারে যখন এখানে এই চিকিৎসা করা যাবে না। আপনি কি কখনও এস এস কে এম -এ গিয়েছিলেন? চিকিৎসকরা একটা বোর্ড গঠন করুক। মেডিক্যাল বোর্ড যদি মনে করে চোখের চিকিৎসার জন্য বিদেশ যাত্রা প্রয়োজনীয়, তাহলে সমস্যা নেই।”
শেষপর্যন্ত হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ অভিষেকের রক্ষাকবচ ৬ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ালেও বিদেশযাত্রার অনুমতি দেয়নি। সিঙ্গল বেঞ্চের এই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে ডিভিশন বেঞ্চে আবেদন না করে সরাসরি সুপ্রিম কোর্টে পৌঁছে যান অভিষেক। শীর্ষ আদালতে আবেদন জানিয়ে অভিষেকের আইনজীবী জানান, ডিজে মামলায় কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে তদন্তে সহযোগিতা করেছেন তিনি। কণ্ঠস্বরের নমুনা দিয়েছেন। এরপরও তাঁকে বিদেশ যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। তাঁর চিকিৎসার জন্য করা আবেদনে সাড়া দিচ্ছে না হাইকোর্ট।
আজ শীর্ষ আদালতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আইনজীবী গোপাল শংকর নারায়ণ দাবি করেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রায় ১৫০০-র বেশি মামলা রয়েছে। যদি বিভিন্ন মামলার কারণে তাঁর বিদেশযাত্রা আটকানো হয়, তাহলে তাঁর চিকিৎসা ব্যবস্থা ব্যহত হবে। আগেও আদালতের নির্দেশে একাধিকবার বিদেশযাত্রা করেছেন অভিষেক। এর আগে আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে বিদেশ গিয়েছেন তিনি।
সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, হাইকোর্টেই এই মামলার শুনানি হবে। একইসঙ্গে নির্দেশ দিয়েছেন, চোখের চিকিৎসার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিদেশ যেতে পারবেন কি না সেবিষয়ে এক সপ্তাহের মধ্যে কলকাতা হাইকোর্টকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টও এই মামলায় হস্তক্ষেপ করল না। ফিরিয়ে দিল কলকাতা হাইকোর্ট এ।